/* */
   Sunday,  Jun 24, 2018   8 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : প্রধানমন্ত্রী •জাতীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন : রাষ্ট্রপতি •এমপি হোক আর এমপির ছেলে হোক কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল • তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা •নাইজেরিয়ার জয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বড় হলো •আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি •টেলিটকের ফোরজির জন্য অপেক্ষা আরো চার মাস
Untitled Document

বিঁধে রইল 'তিস্তা কাঁটা'

তারিখ: ২০১৫-০৬-০৬ ১৩:৩২:০৪  |  ২৫৮ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিনিধি: শেষ পর্যন্ত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কাঁটার মতোই বিঁধে রইল। ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল পাস, ছিটমহল বিনিময়, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও ঘনিষ্ঠতা প্রভৃতি বিষয়ে প্রভূত অগ্রগতি সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় চোরকাঁটার মতোই খচখচ করছে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের আপাতরহিত সম্ভাবনা। চুক্তিটি স্বাক্ষর হলে নরেন্দ্র মোদির এই সফর 'সর্বাঙ্গীণ সুন্দর' হতে পারত।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে তিস্তা চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়ে ঢাকা সফর বাতিল করায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়নি। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন বটে; তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না। এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর তিস্তার পানি বণ্টনের ব্যাপারে আলোচনা শুরু হলেও পুরনো কাঠামোতে তিস্তা চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফের বেঁকে বসেন ওপারের দিদি।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার খবর- ঢাকা সফরে 'তিস্তা চুক্তি না করার' আশ্বাসেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তার দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে রাজি হয়েছেন। গত ১ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দিলি্লতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই দফায় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে ঢাকায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও জানিয়ে দেন, 'আলোচনা চলছে। তবে সফরের সময় তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা নয়।'

দিলি্লর সাউথ ব্লকের বিভিন্ন সূত্রও জানাচ্ছে যে, তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও পর্দার অন্তরালে চুক্তিটি চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া থেমে নেই। ঢাকা ও দিলি্লর মধ্যে এবং দিলি্ল ও কলকাতার মধ্যে এর কারিগরি বিভিন্ন দিক নিয়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। সমকালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিও জানিয়েছেন, 'তিস্তা চুক্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র।' তবে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল- নরেন্দ্র মোদির এই সফরের সময়েই স্বাক্ষরিত হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি। সীমান্তের দুই পাশেরই দুর্ভাগ্য, এই দফায় অন্তত তা সম্ভব হচ্ছে না।

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে আশার পারদ উচ্চে উঠেছিল চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে। সেই সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ওপর 'আস্থা' রাখতে বলে গিয়েছিলেন। ওই সফরের শুরুতে ২০ ফেব্রুয়ারি 'বৈঠকি বাংলা'য় সুধীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, 'ল্যান্ড বাউন্ডারি প্রবলেম যেমন সল্ভ করে দিয়েছি, তিস্তা নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না; আমার ওপর আস্থা রাখুন। আগামীকাল হাসিনাদির (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হবে। আমাদের ওপরই ছেড়ে দিন। তিস্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।' কিন্তু শেষ পর্যন্ত উষ্ণতা ও আন্তরিকতায় ভরা নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ও তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকল।

তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল আসলে পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ব্রিটিশ শাসনামলে তিস্তা নদীতে ব্যারাজ দিয়ে বৃহত্তর রংপুর ও কোচবিহার এলাকায় সেচের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল। এর সম্ভাব্যতা যাচাইও সম্পন্ন হয় তখন। কিন্তু দেশ বিভাগের পর বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে এবং দুই দেশ এ থেকে উত্তরণে আলোচনা শুরু করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরে ভারত এককভাবে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়।

যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী তৌহিদুল আনোয়ার খান ২০১১ সালের মার্চে 'নদী' নামে একটি বর্ষপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে লিখেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়টি ভারতের নিকট বাংলাদেশ প্রথম উপস্থাপন করে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকে। ওই বৈঠকে যৌথ নদী কমিশন দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর একটি হচ্ছে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তিস্তা নদীর পানি দু'দেশের মধ্যে বণ্টনের হার নির্ধারণ করবেন। এরপর যৌথ নদী কমিশনের ১৫তম বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ ভারতীয় তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় ভারত মহানন্দা নদীর পানি প্রত্যাহার করলে বাংলাদেশ জোর প্রতিবাদ জানায়।

১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে যথাশিগগির সম্ভব তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ক একটি চুক্তি সম্পাদন করতে দু'পক্ষ একমত হয়। ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দু'পক্ষ বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি করে তিস্তার মোট চারটি হাইড্রোলজিক্যাল পরিমাপ স্টেশনের তথ্য-উপাত্ত বিনিময় করে। পরে কয়েকটি বৈঠকে বণ্টনের জন্য তিস্তা নদীর মোট লভ্য পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে ব্যর্থ হলেও ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশনের ২৫তম বৈঠকে দুই দেশ তিস্তার পানি বণ্টনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে উপনীত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী তিস্তার মোট প্রবাহের ৩৬% পায় বাংলাদেশ, ৩৯% পায় ভারত। বাকি ২৫% প্রবাহ তিস্তা নদী খাতের জন্য। ১৯৮৫ সালে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

এর পর থেকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক ডজন বৈঠক হলেও পানি বণ্টনের ফর্মুলা চূড়ান্ত বা চুক্তি স্বাক্ষরে অগ্রগতি হয়নি। ২০১০ সালে ১৭-১৮ মার্চ নয়াদিলি্লতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু আবার হালে পানি পায়। ২০১১ সালের জুন মাসে নয়াদিলি্লতে তিস্তা চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়ায় দুই দেশের পানিসম্পদ সচিব স্বাক্ষর করেন। ওই বছর সেপ্টেম্বরে চুক্তিটি স্বাক্ষরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখতে পেল না।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি •ফারমার্স ব্যাংক থেকে মহীউদ্দীন আলমগীরের পদত্যাগ বেসিক ব্যাংকের দুই সাবেক পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ •বাংলাদেশে ৮ লাখ ১৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে : আইওএম •রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দশ হাজার লেট্রিন নির্মাণ করে দিবে ইউনিসেফ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document