/* */
   Monday,  Dec 10, 2018   03:31 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা আনবে 'কানেক্টিভিটি'

তারিখ: ২০১৫-০৬-০৯ ১১:৫২:৪৪  |  ২৪০ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বা সংযোগের বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন মাত্রা পাবে। দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে হলে অবকাঠামো খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখন সেদিকেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে সই হওয়া চুক্তিগুলোতে অনেক শর্ত এখনও পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের যে চুক্তি হতে যাচ্ছে, তার অনেক কিছুই এখনও জানা যায়নি। সরকারের উচিত হবে বিষয়গুলো পরিষ্কার করা এবং চুক্তি বাস্তবায়নে যথাসম্ভব দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। সরকারি নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে-ভারতের ক্ষেত্রে শিগগিরই শুরু হবে চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়নের পালা। তবে এ প্রক্রিয়ার জন্য উভয় দেশের মধ্যে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।
এদিকে, গতকাল চারটি দেশের মধ্যে সড়কপথে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল-সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আগামী ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা। তবে ভবিষ্যতে এই চার দেশের সম্মতিতে অন্য দেশও এতে যুক্ত হতে পারবে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছর থেকে এই চার দেশের মধ্যে মোটরযান চলাচল শুরু হবে।
বাংলাদেশ-ভারত কানেক্টিভিটি :ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে_ কোস্টাল শিপিং বা উপকূলীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য নবায়ন, নৌ প্রটোকল চুক্তি, ঢাকা-শিলং-গৌহাটি বাস সার্ভিস ও ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা বাস সার্ভিস ইত্যাদি। এ ছাড়া রেল, সড়কসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে নতুন করে ২০০ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দু'দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে। সুদৃঢ় হবে সম্পর্ক। প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের।
যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সমকালকে বলেন, কানেক্টিভিটি বাড়াতে উভয় দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি সই হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রধান কাজ হবে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় করণীয় দিকগুলো ঠিক করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। সরকারি নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি সইয়ের পর বাস্তবায়নে কিছু প্রক্রিয়া আছে। এগুলো করতে সময় লাগবে।
অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল চুক্তি তিন বছর পরপর নবায়ন হতো, যা ১৯৭২ সাল থেকেই হয়ে আসছে। এবারের চুক্তিতে পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তি সই হলেও নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি-চার্জের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। দুই দেশের মধ্যে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-শিলং-গৌহাটি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লেও অধিক সুবিধা পাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ। এতদিন তাদের দীর্ঘ ঘুরপথে কলকাতা বা ভারতের অন্যান্য পথে যেতে হতো। এখন তারা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সেসব জায়গায় যেতে পারবে। অন্যদিকে ঢাকা-শিলং-গৌহাটি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রচুর মানুষ বাংলাদেশে বেড়াতে আসবে। এতে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প লাভবান হবে। তবে এই পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ভাড়া ও মাশুল হিসেবে কী সুবিধা পাবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আবার কোস্টাল শিপিং বা উপকূলীয় পরিবহন দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। কারণ, এই চুক্তি কার্যকর হলে উভয় দেশের আমদানি ও রফতানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় কমবে। কিন্তু চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তার বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ মাশুল পাবে, সেটি স্পষ্ট করা হয়নি চুক্তিতে। ভারত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে নৌ ও সড়ক_ দুটি পরিবহনই ব্যবহার করতে চাইবে। তা ছাড়া কোস্টাল শিপিং চুক্তিতে পণ্য পরিবহনের জন্য কী পরিমাণ মাশুল বা ফি নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কানেক্টিভিটি বাড়াতে ভারতের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তিগুলোয় অনেক শর্ত এখনও অস্পষ্ট। সরকারের উচিত হবে শর্তগুলো পরিষ্কার করে চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া। তিনি বলেন, কানেক্টিভিটি বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমে যাবে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৯০ ভাগই হয় স্থলপথে। উপকূলীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, ভারত কিংবা এ অঞ্চলের সঙ্গে 'কানেক্টিভিটি' প্রশ্নে বাংলাদেশে অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের দরকার হবে। ভারত নতুন যে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দিয়ে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা যাবে।
চার দেশে যান চলাচলে চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন :ইউরোপের আদলে সার্কভুক্ত চারটি দেশে বাধাহীন সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল সরকারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতে এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। প্রাথমিকভাবে এই চারটি দেশের পণ্যবাহী গাড়ি, পর্যটকবাহী পরিবহনসহ মোটরযান তিনটি রুটে নির্বিঘ্ন চলাচল করতে পারবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ-সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হলে সার্কভুক্ত এই চারটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্পে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন শুধু ভারতে প্রবেশ করতে পারে। পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ছুটতে পারবে পর্বতঘেরা হিমালয়ের দেশ নেপালে বা দ্বীপরাষ্ট্র ভুটানে।
সার্কভুক্ত এই চার দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ থেকে তিনটি রুটে যান চলাচল করতে পারবে। ঢাকা থেকে ভুটান যেতে হলে ঢাকা-বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জয়গাঁ-ফুয়েসারেং হয়ে থিম্পু; ঢাকা থেকে নেপাল যেতে ঢাকা-বাংলাবান্ধা-ফুলগাড়ীর বর্ডার হয়ে ভারতের মধ্যে ৩৭ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে কাকারভিটা-পানির ট্যাংক হয়ে নেপাল-কাঠমান্ডু। আর ঢাকা থেকে ভারতের রাজধানী দিলি্লতে পেঁৗছাতে হবে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কলকাতা হয়ে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, চার দেশের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীরা ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চুক্তিটি স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে সার্কের কাঠমান্ডু সম্মেলনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন না থাকায় তখন তা সম্ভব হয়নি।
চার দেশীয় সড়ক যোগাযোগের এই চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ চুক্তির আওতায় নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলাচল করা যানবাহনকে ফি দিতে হবে। যে দেশের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে, রাস্তার দূরত্বসহ বিভিন্ন স্থাপনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ এসব যানবাহনের ফি নির্ধারণ করবে। থিম্পুতে যোগাযোগমন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে করা প্রটোকলে এসব বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যদি নেপাল থেকে কোনো যানবাহন ভারতের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে আসে, তবে ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই পয়েন্টে ফি দিতে হবে। আমাদের দেশ থেকে কোনো যানবাহন নেপাল গেলে তাকেও একইভাবে ফি পরিশোধ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শুধু নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলেই যে কোনো যানবাহন এই চার দেশীয় আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করতে পারবে না। চার দেশীয় এই সড়ক ব্যবহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে চুক্তির খসড়া অনুযায়ী রুট পারমিট নিতে হবে। এক দেশে থেকে আরেক দেশে যাওয়ার সময় মধ্যবর্তী দেশের কোথাও কোনো যাত্রী বা মালামাল যানবাহন থেকে নামানো বা তোলা যাবে না। যে দেশের ওপর দিয়ে যানবাহন যাবে, ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে যানবাহন থামিয়ে তার সার্চ এবং ইন্সপেকশন করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, তিন বছর পরপর এই চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। কোনো দেশ যদি ইচ্ছা করে, তাহলে ছয় মাসের নোটিশ দিয়ে এই কানেক্টিভিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারবে। আবার সার্কভুক্ত অন্য কোনো দেশ এই রোড কানেক্টিভিটিতে যুক্ত হতে চাইলে চার দেশের সম্মতিতে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারবে।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক রাষ্ট্রপতির •আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document