/* */
   Sunday,  Jun 24, 2018   6 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : প্রধানমন্ত্রী •জাতীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন : রাষ্ট্রপতি •এমপি হোক আর এমপির ছেলে হোক কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল • তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা •নাইজেরিয়ার জয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বড় হলো •আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি •টেলিটকের ফোরজির জন্য অপেক্ষা আরো চার মাস
Untitled Document

'মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ পুলিশের তদন্ত'

তারিখ: ২০১৫-০৭-০৬ ১৪:৫৭:৪৭  |  ৩৫৩ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের দুর্বল ও ক্রটিপূর্ণ তদন্তের কারণে অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। ধরা পড়লেও জেল থেকে বেরিয়ে আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে। চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোরও সঠিক বিচার হচ্ছে না প্রসিকিউশনের দুর্বলতায়। এসব মন্তব্য স্বয়ং প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার। তার দৃষ্টিতে পুলিশের তদন্ত মারাত্মক ক্রটিপূর্ণ। পুলিশের প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে। পুলিশ বড় অপরাধীদের ধরতে পারে না। মানব পাচারবিরোধীসহ নতুন যেসব আইন সরকার করছে, সেগুলোও ভালো হয়নি বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি।
জাতীয় সংসদের মানব পাচার, জনসংখ্যা ও মানবাধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন প্রধান বিচারপতি। গতকাল রোববার সোনারগাঁও হোটেলে মানব পাচার প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া।
আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের ২১ জন এমপি। সংলাপ সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি। নিবন্ধ পাঠ করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব
ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, এনএসআইর প্রধানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
মানব পাচারকারীদের রেহাই পাওয়ার জন্য দুর্বল তদন্তকে দায়ী করেন প্রধান বিচারপতি। সব মামলার ক্ষেত্রে অবস্থা অভিন্ন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'পুলিশের তদন্ত মারাত্মক ক্রটিপূর্ণ। তদন্তে কোনো ইস্যু খুঁজে পায় না। পুলিশ অফিসারদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তাদের তত্ত্বগত প্রশিক্ষণ থাকলেও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেই। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি কীভাবে নিতে হয়, তাও জানে না অনেক অফিসার।'
মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'পুলিশ ছোট ছোট অপরাধীদের ধরে। মূল অপরাধীরা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।'
মঞ্চে উপস্থিত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হককে ইঙ্গিত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার সাত দিনের মধ্যে আইজি এসেছিলেন। তাকে বলেছিলাম, পুলিশের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে। প্রয়োজনে বিচারপতিরা প্রশিক্ষণ দেবেন। দুঃখের সঙ্গে বলছি, এখনও তাদের (পুলিশের) সাড়া পাইনি।'
সরকারি আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরদের দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। উপস্থিত এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সংসদ সদস্য যারা আছেন, তারা নিজ নিজ জেলায় দলীয় বিবেচনায় পিপি নিয়োগ দেবেন না।' এ সময় কয়েকজন এমপি হেসে উঠলে প্রধান বিচারপ্রতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, 'হাসবেন না। তারা (পিপি) সিআরপিসির সিও জানে না।' প্রধান বিচারপতির আক্ষেপ, পিপিরা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) বোঝেন না।
চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোরও সুবিচার না হওয়ায় দুর্বল তদন্ত ও প্রসিকিউশনকে দায়ী করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন. 'বর্তমানে পিপি-এপিপিরা চাঞ্চল্যকর মামলায় যুক্ত হন মিডিয়ায় নাম প্রচারের জন্য; কিন্তু তারা যে সাক্ষ্যপ্রমাণ দেন, তা অখাদ্য।'
মানব পাচার প্রতিরোধসহ নতুন প্রণীত আইনগুলোরও সমালোচনা করেন এস কে সিনহা। তিনি বলেন, 'আমাদের আইনগুলো খুব একটা চিন্তা-ভাবনা না করেই প্রণয়ন করা হয়। একটি আইন আসার দু-এক মাস পর সংশোধন করতে হয়। যে আইন করা হয় তার মোটিভ পারপাস খুুঁজে পাওয়া যায় না। কোনো আইনই ভালো হচ্ছে না।' আইন প্রণয়নের সময় আইন কমিশন ও বিচারপতিদের অভিমত নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।
নিম্ন আদালতের মামলা হাইকোর্টে স্থগিত হয়ে যায়_ আগের বক্তাদের এমন অভিযোগের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমাদের পুরাতন আইনগুলো খারাপ নয়। তদন্ত ও প্রসিকিউশন ঠিক থাকলে হাইকোর্টে স্টে হবে না। স্টে হলেও আমি 'ভেকেট' করে দেব।" তিনি আবারও দুর্বল তদন্তের সমালোচনা করে বলেন, 'দু-তিনটি আদালতে সাজা হওয়ার পরও আমাদের কাছে আসার পর শাস্তি দেওয়ার মতো আইনি দিক খুঁজে পাই না।' সোনা চোরাচালানের মামলায় জামিন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মানব পাচার প্রতিরোধে সরকার ২০১২ সালের আইনের অধীনে সাত বিভাগে মানব পাচারবিরোধী ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ইতিপূর্বে সংসদে জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচারের বিচার হবে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, 'তাদের ওপর ৫-১০ হাজার মামলা ঝুলে আছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক কোনটার বিচার করবেন?'
লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি মানব পাচার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পুলিশকে মামলা সঠিকভাবে রেকর্ড ও তদন্ত করতে হবে। সময়মতো আদালতে সাক্ষী হাজির করতে হবে। বিচারকের দায়িত্ব হবে, যেন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে এসে কোনোভাবেই ফেরত না যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তিনি বলেন, আসামি শাস্তি পাবে কি-না তা নির্ভর করে পুলিশ কতটা গুরুত্ব দিয়ে মামলা তদন্ত করেছে। পুলিশ ঠিকভাবে তদন্ত না করলে মামলার ফল হয় শূন্য। কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছা করে গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থানের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের পেছনে রোহিঙ্গা সমস্যা একটি বড় কারণ। বৈধভাবে জনশক্তি রফতানির তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈধভাবে যেতে না পারলে অবৈধভাবে কর্মী যাওয়া বাড়বে। আর এতে সুযোগ নেবে দালালরা।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি নারী ও শিশু পাচার বন্ধে মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো আইন হলেও বাস্তবায়নে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। মানব পাচার আইন হলেও বিধিমালা না করার সমালোচনা করেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও মানব পাচার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেন। শ্রম সচিব মিকাইল শিপার কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করেন।
আইজিপি শহীদুল হক বলেন, মানব পাচারকারীদের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মকবুল হোসেন বলেন, সাগরপথে পাচার রোধে সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে কোস্টগার্ড। তবে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দাবি করেন, মানব পাচারের যে সংখ্যা মিডিয়া প্রচার করছে, তা অতিরঞ্জিত। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যারা পাচারের শিকার তাদের অধিকাংশ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশি কারও নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসেনি।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি •ফারমার্স ব্যাংক থেকে মহীউদ্দীন আলমগীরের পদত্যাগ বেসিক ব্যাংকের দুই সাবেক পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ •বাংলাদেশে ৮ লাখ ১৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে : আইওএম •রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দশ হাজার লেট্রিন নির্মাণ করে দিবে ইউনিসেফ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document