/* */
   Friday,  Dec 14, 2018   4 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

পিটিয়ে শিশু হত্যার ঘটনায় চারজন শনাক্ত

তারিখ: ২০১৫-০৭-১৩ ১২:২১:২৬  |  ২০৭ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

সিলেট প্রতিনিধি: নির্যাতনের পর একটি শিশুকে হত্যা এবং তার লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার ভিডিওর সূত্র ধরে ইতিমধ্যে চার নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
 
চোর 'অপবাদ' দিয়ে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় আরও দুইজনকে খোঁজা হচ্ছে। মূল ঘটনা ঢাকতে লাশ গুম করার সময় জনতার হাতে আটক মুহিত আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে শিশু রাজন হত্যার প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ গুম করার চেষ্টা করে ঘাতকরা।
 
পুলিশ আরও জানায়, রাজনকে হত্যার পর তার মরদেহ মাইক্রোবাসে করে কুমারগাঁও গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি খালি মাঠে মরদেহটি রাখার সময় স্থানীয় লোকজনের কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে। তারা মরদেহ রাখতে যাওয়া কয়েকজনকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে জনতা মুহিত আলম নামে একজনকে আটক করলেও পালিয়ে যায় অন্য অপরাধীরা।
 
পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ঘটনার বর্ণনা দেয় মুহিত। ঘটনার একদিন পর লাশ দেখে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন রাজনকে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। মামলায় রাজনের লাশ ফেলার সময় হাতেনাতে আটক মুহিত ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (সৌদি প্রবাসী) তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে আসামি করা হয়।
 
রাজন হত্যার পর গত শনিবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। ২৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে ফুটে উঠেছে শিশু রাজনকে বর্বর নির্যাতনের চিত্র। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, চোর সন্দেহে রাজনকে কুমারগাঁও বাসস্টেশনের একটি দোকানঘরের বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রাখা। এতে তিন-চারজনের কণ্ঠস্বর শোনা গেলেও ভিডিওতে দুজনের চেহারা দেখা যায়।
 
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, রাজনকে চোর অপবাদ দিয়ে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করতে। প্রায় ১৭ মিনিট রাজনকে অনেকটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রোল দিয়ে পেটানো হয় এবং নানা প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে মাটিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে পানি খাওয়ার আকুতি জানায় রাজন। কিন্তু পানির বদলে ‘ঘাম খা’ বলে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
 
কয়েক মিনিটের জন্য রাজনকে হাতের বাঁধন খুলে রশি লাগিয়ে হাঁটতে দেওয়া হয়। 'হাড়গোড় তো দেখি সব ঠিক আছে' এই বলে রাজনের বাঁ হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে কয়েক দফা পেটানো হয়।
 
ভিডিওচিত্র ধারণ করার সময় যে সময় উল্লেখ রয়েছে তাতে দেখা গেছে সকাল ৭টা। একদিকে রাজনের মুখে আর্তচিৎকার, অন্যদিকে নির্যাতনকারীদের মুখে অট্টহাসি ও নানা কটূক্তি। ভিডিও চিত্রে রাজনের নখে, মাথা ও পেটে রোল দিয়ে আঘাত করে এক সময় বাঁ হাত ও ডান পা ধরে মোচড়াতেও দেখা যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে শিশু রাজন।
 
বেওয়ারিশ হিসাবে একদিন রাজনের মরদেহ রাখা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। সেখানে রাজনের পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।
 
এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, নির্যাতন ভিডিওচিত্রে ধারণ করার বিষয়টি দেখেছি। যারা দেখেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মামলার আসামি চারজনই সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর দুজন থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
 
তিনি জানান, ভিডিওচিত্র ধারণসহ পুরো ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহিতকে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কামরুল যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
 
এদিকে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে রাজনের বাসার সামনে এলাকাবাসী মানবন্ধন করে। এতে শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু অংশ নিয়ে রাজনের খুনিদের ফাঁসি দাবি জানায়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রতিবাদী নারী পুরুষদের কণ্ঠে ছিল ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা ও নিহত রাজনের প্রতি সমবেদনা। 


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক রাষ্ট্রপতির •আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document