/* */
   Tuesday,  Jun 19, 2018   06:38 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •বাংলাদেশের ঢাকায় কিভাবে কাটে তরুণীদের অবসর সময়? •রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: ইতিহাসের বিচারে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে •বাংলাদেশের উপকূলের কাছে রাসায়নিক বহনকারী জাহাজে আগুন •ঈদের যুদ্ধবিরতিতে অস্ত্র ছাড়াই কাবুলে ঢুকলো তালেবান যোদ্ধারা •বিশ্বব্যাংক প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৭শ’ মিলিয়ন ডলার দেবে •ঢাকা মহানগরীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত •জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতির ঈদের নামাজ আদায়
Untitled Document

ক্রিকেটীয় ঈদ

তারিখ: ২০১৫-০৭-১৬ ১৩:৩৪:২৮  |  ৩৪১ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ক্রীড়া ডেস্ক: আকরাম খান, নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবাল—চট্টগ্রামের এই ক্রিকেট পরিবারের ঈদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেলার আবহ। শোনা যাক তাঁদের ঈদ উদ্যাপনের গল্প...

সেই এক দিন ছিল! স্মৃতির আয়নায় তাকালে মনে হবে সাদাকালো দিন। আসলে তা নয়। সময়ের কাঁটাকে স্থির রাখা গেলে হারিয়ে যাওয়া দিনই যেন হয়ে ওঠে বেশি প্রাণবন্ত ও রঙিন। একটি ক্রিকেট পরিবারের ঈদের গল্প বলছি।
চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির দোতলা বাড়িটা সময়ের সিঁড়ি বেয়ে এখন ছয়তলা। কিন্তু আগের প্রাণটা কি আছে এর ইটপাথরের দেয়ালে? বছরের বেশির ভাগ সময় কোলাহলহীন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে লাল ইটের দালান। শুধু একজন মানুষের অনুপস্থিতি সবকিছু কতটা বদলে দিতে পারে!
এখনো অবশ্য বছরে অন্তত দুবার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির বাড়িটি ফিরে পায় হারানো চাঞ্চল্য। একসময় এ বাড়ির হৃৎপিণ্ড ছিলেন ইকবাল খান। বছর পনেরো হলো মারা গেছেন তিনি। তবে পরিবারের প্রতিটি বিষয়ে আজও হয়ে আছেন ছায়াসঙ্গী। ইকবাল খানের অভাব যেমন পরিবারের সদস্যদের গোপন বেদনায় বাষ্পীভূত করে, তাঁর স্মৃতি আবার নতুন প্রজন্মের জন্য আলোর মশালও। হ্যাঁ, ইকবাল খানের কাছ থেকে পাওয়া অদৃশ্য ঝান্ডা হাতে তাঁরা ছুটে চলেছেন ভবিষ্যতের পথে। প্রতিটি পদক্ষেপে চলে তাঁরই পদচিহ্ন অনুসরণ। এমনকি ঈদ উৎসবেও।
চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবারে জন্ম তিন টেস্ট ক্রিকেটারের—আকরাম খান আর তাঁর দুই ভ্রাতুষ্পুত্র নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবাল। ইকবাল খান যে এই নাফিস-তামিমেরই বাবা, তা নিশ্চয়ই বলে দেওয়ার দরকার নেই। আজ তিনি স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধা ছবি। তবে পাঁচ ভাইয়ের চারজন—আজম খান, আকরাম খান, আসলাম খান, আফজাল খান ও আকবর খান এবং খান পরিবারের পরের প্রজন্মও বড় হচ্ছে ইকবাল খানেরই আদর্শে।
প্রতিবছর রোজার ঈদের পরদিন পরিবারের সদস্য আর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে একটা প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ হবে, এই নিয়ম ইকবাল খানের ছেলেবেলা থেকেই। কিংবা আরও আগে থেকে হতে পারে। আকরাম খান চেষ্টা করেও মনে করতে পারলেন না সময়টা, ‘কবে থেকে যে শুরু বলতে পারব না। বোঝার বয়স হওয়ার পর থেকেই তো এটা দেখে আসছি! ঈদের পরদিন বিকেলে ছোটরা বড়দের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে। অনেক বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনও যোগ দেয়। আগে ভাইয়াই এটা আয়োজন করতেন। এখন আমরা করি।’
এত বছরের রীতিতে যা একটু পরিবর্তন এসেছে তা খেলার ধরনে। আগে হতো সাদাপোশাকে টেপ টেনিসের ক্রিকেট ম্যাচ, এখন ফুটবল। কোনো বছর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের বাইরের আউটার স্টেডিয়ামে। কখনো জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসের সামনের মাঠে। মহাধুমধামে খেলা। দর্শক পরিবারের নারী ও শিশুরা। বসার ব্যবস্থা হয় শামিয়ানার নিচে। আগে তো ব্যান্ড পার্টিও থাকত! ছয় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিতে চলে আসে বোনদের পরিবারও। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় ঈদের পরে ছাপা হয় এই খান পরিবারের ঈদের খেলার খবর আর ছবি।
বাড়িটা তাঁদের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের খুব কাছে।
ক্রিকেট খেলার সময় দুপুরের খাবার বাসায় গিয়ে খেয়ে আসতেন সবাই। খাওয়া মানে মহাভোজ। এটাও ইকবাল খানের ইচ্ছায়। এখন অবশ্য খেলার সঙ্গে খাওয়ার ব্যাপারটাও একটু বদলেছে। বিকেলে ফুটবল খেলে কাজীর দেউড়ির বাসায় সবাই একসঙ্গে বসেন রাতের খাবারে। পারিবারিক এই উৎসবের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাফিস ইকবালের কণ্ঠে রোমাঞ্চ, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব—সব মিলিয়ে ৫০-৬০ জন হয়ে যাই আমরা। খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা ধুমসে চলে।’
এক ঈদে ক্রিকেট ম্যাচের পরে খান পরিবার। ছবি: পারিবারিক অ্যালবাম থেকেকয়েক যুগ ধরে খান পরিবারের ঈদ জমে ওঠে খেলাকে ঘিরেই। দু-তিন দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা হতে থাকে ম্যাচ জেতার। ছোটদের কাছে বড়রা হারলে মানসম্মান সব শেষ। ছোটদের আবার প্রতিজ্ঞা, বড়দের ওপর ছড়ি ঘোরানোর এই তো সুযোগ! এমন সুযোগ বছরে একবারই আসে। যে করেই হোক জিততে হবে। একটা সময় নাকি ম্যাচ জেতার জন্য আম্পায়ার-স্কোরারদের ‘হাত’ করারও চেষ্টা চলত! স্মৃতির ভেলায় ভেসে আকরাম খান চলে গেলেন সেই দিনে, ‘মনে আছে, ভাইয়া বেঁচে থাকতে সব সময় আমার স্ত্রীকে ম্যাচের স্কোরার রাখতেন, যেন তামিমের রানটা একটু বাড়িয়ে দেয়...। আম্পায়ার থাকতেন আমার চাচাশ্বশুর। নিজে ফুটবলার হলেও ছেলেরা ক্রিকেট পছন্দ করে বলে প্রতিবছর তিনি ক্রিকেট ম্যাচেরই আয়োজন করতেন।’
বাবা নেই। তবে জয়ের নীলনকশা এখন আঁকা হয় তামিমের হাতে। এবারের ঈদে খেলাটা নিয়ে যেমন ভীষণ উত্তেজিত জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার, ‘এবার তো ঈদের সময় দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ পড়ে গেল। অনেক ক্রিকেটার থাকবে চট্টগ্রামে। ভাবছি আমাদের দলে ওদেরও খেলিয়ে দিব। দেখি বড়রা কীভাবে জেতে!’ কথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ, কিন্তু চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। খেলার প্রসঙ্গ তোলায় ঈদের আনন্দ যেন ঈদের খানিকটা আগেই ভর করে বসল তামিমের মধ্যে।
একই ছাদের নিচে রক্তের সম্পর্কের এতগুলো মানুষ এত দিন ধরে একসঙ্গে ঈদ করছে। ছোট হয়ে আসা পারিবারিক গণ্ডির এই যুগে খুব কম উদাহরণই আছে এ রকম। নাফিস সেদিন আঙুলে গুনে গুনে বলছিলেন, ‘ঈদের সময় সব মিলিয়ে আমাদের বাড়িতে ২৮-৩০ জন হয়ে যায়। ফুপিরা এলে আরও ১০-১২ জন যোগ হয়।’
পরিবারের ছোটদের দলে মেয়েদের ‘নেত্রী’ নাফিসের স্ত্রী ইভা নাফিস। তাঁর কথা নাকি সবাই বেশ মানে। ছেলেদের নেতৃত্বে তামিম। অন্য সব পরিবারের মতো এখানেও চাঁদরাত থেকে ঈদ উৎসবের শুরু। তবে পরিবারের ঢাকাবাসী সদস্যরা আগে আগে চট্টগ্রাম চলে গেলে উৎসবের আবহও চলে আসে একটু আগেই। ঈদের দিনের রান্নাবান্না আর ঘর সাজানো নিয়ে ব্যস্ততা বাড়ে বাড়ির নারীদের। ছোটদের দায়িত্ব ঘর সাজানোর ফুল-ফলসহ টুকটাক জিনিস কিনে আনা। আর মূল বাজারটা করেন সেন বাবু, এই পরিবারের সঙ্গে যাঁর বিনি সুতার মালার সম্পর্ক বহুদিনের।
খান পরিবারে দীর্ঘদিন ঈদের দিনের সকালের ছবিটা ছিল একই রকম। নামাজ পড়ে এসে ইকবাল খানের প্রথম কাজ ছিল মাকে সময় দেওয়া। দুজনের কেউই এখন বেঁচে নেই। বদলেছে ঈদের দিনের শুরুর ছবিটাও। এখন অতিথি-আপ্যায়নের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় নামাজের পর থেকেই। এই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের তালিকা এত লম্বা যে তাঁদের আতিথেয়তা দেওয়ার আনন্দেই কেটে যায় ঈদের দিনের বেশির ভাগ সময়।
একসময় ঈদ উপলক্ষে দূরে বেড়াতে যাওয়ারও রীতি ছিল। ঈদের পরদিন খেলা, তার পরদিন পরিবার-বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন নিয়ে কক্সবাজার নয়তো রাঙামাটির উদ্দেশে যাত্রা। চার-পাঁচটি গাড়ির বহর চট্টগ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ত দু-তিন দিনের জন্য। ইকবাল খানের মৃত্যুর পর ‘ঈদ ফ্যামিলি ট্রিপ’টা আর হয় না। নাফিসের কাছে এটা এখন শুধুই স্মৃতি, ‘মনে আছে, আব্বার কাছে একটা লিস্ট থাকত। কে কোন গাড়িতে উঠবে, ওখানে গিয়ে হোটেলে কে কোন রুমে থাকবে—সব। বাসায় পুরোনো কাগজ ঘাঁটতে গিয়ে কিছুদিন আগেও এ রকম একটা তালিকা খুঁজে পেলাম।’
নাফিস স্মৃতিকাতর হয়ে যাচ্ছিলেন। তবে আকরাম খান অতটা নন। বরং বড় ভাইয়ের স্নেহের পরশ এখনো যেন তাঁকে সেই দিনেই রেখেছে, ‘আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে এত দিন ধরে আমরা সবাই একই সঙ্গে একই বাড়িতে ঈদ করছি। ভাইয়াই আমাদের এটা শিখিয়ে গেছেন।’
দিনপঞ্জির পাতা বদলায়, পাল্টে যায়। বদলায় না শুধু চট্টলার কাজীর দেউড়ির লাল ইটের দালানের ঈদ। ঈদ আনন্দে খেলার রোমাঞ্চ।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: ইতিহাসের বিচারে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে •হঠাৎ রিয়াল ছাড়লেন জিদান •বিপিএল : দর্শকপূর্ণ সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উৎসব মুখর পরিবেশ •ফুটবল খেলা আমাদের কাছে স্বাধীনতা': কলকাতায় মুসলিম মহিলাদের ফুটবল ম্যাচ •মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তার টাইগার উডস •আইপিএলের পূর্ণাঙ্গ সূচি •রামগঞ্জে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুনামেন্ট উদ্বোধন • মামলায় জামিন পেলেন ক্রিকেটার আরাফাত সানি
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document