/* */
   Thursday,  Dec 13, 2018   01:35 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

দুদকের অনুসন্ধানে প্রধান অভিযুক্তই বাদ!

তারিখ: ২০১৫-০৭-২৮ ১২:২৭:৩৫  |  ২৬৯ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিউজ ডেস্ক: বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে আড়াল করে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ অনুসন্ধান শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রধান অভিযুক্তই বাদ পড়েছেন দুদকের অনুসন্ধানে। এই ঋণ জালিয়াতির জন্য শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকেই প্রধানত দায়ী করা হয়। যদিও দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বাচ্চুর বিরুদ্ধে দালিলিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুদকের ওই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ৯-১০ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতার গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে খোদ বেসিক ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বিগত ছয় বছরের ঋণ-সংক্রান্ত নথিপত্রে সাবেক ওই চেয়ারম্যানের জালিয়াতির নানা প্রমাণ রয়েছে। অনুসন্ধানে যা এড়িয়ে গেছে দুদক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছয় বছরের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার দায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তার নির্দেশেই সব কিছু হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই সময়ে ৩২টি ঋণ প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদে পাস করা হয়।

ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও এমডি এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন না। পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ওই ৩২টি ঋণ প্রস্তাব (রেজুলেশন) তৈরি করে সংশ্লিষ্ট শাখাকে ঋণ প্রদানের লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন; যা ছিল জামানতবিহীন ঋণ জালিয়াতি। এসব অনিয়মের সঙ্গে বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতার দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। তার পরও কোন যুক্তিতে দুদকের কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাচ্ছেন না, তা বোধগম্য নয়। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বেসিক ব্যাংকের দেওয়া ঋণের নথিপত্রে বাচ্চুর কোনো স্বাক্ষর, সুপারিশ, ঋণ প্রদানের কোনো নির্দেশনার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই সময়ে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক ও এমডিরা সব কাজ করেছেন। অর্থ আত্মসাতে এমডি, ডিএমডি, জিএম ও সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন ও ঋণের টাকা ছাড় করার ক্ষেত্রে রেজুলেশন, নোটশিটসহ নানা কাগজপত্রে তাদের স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে।

বেসিক ব্যাংক সূত্র জানায়, শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দুটি মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে ২০০৯ সাল থেকে গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছয় বছরে ব্যাংক থেকে মোট ৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের নামে আত্মসাৎ করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। ওই ছয় বছরে পরিচালনা পর্ষদের ঋণ-সংক্রান্ত নথিপত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি, ব্যাংকের নিয়ম-নীতির বাইরে ঋণ প্রদানে বাচ্চুর দালিলিক প্রমাণাদি রয়েছে। তার নির্দেশ ছাড়া ওই সময় ব্যাংকে কোনো কাজ হতো না। দুদকের অনুসন্ধানে ওই সময়কার পরিচালনা পর্ষদের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়নি। অনুসন্ধানে গলদ রয়েছে। জানা গেছে, ওই সময় সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডির আজ্ঞাবহ চার কর্মকর্তাকে শান্তিনগর, দিলকুশা, গুলশান শাখা ও স্থানীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ঋণ গ্রহীতা জোগাড় করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল একটি দালাল চক্র। শাখা ব্যবস্থাপকরা ভুয়া ঋণ প্রস্তাব তৈরি করে এমডির কাছে পেশ করতেন। এরপর পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পাস করিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংক থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে বের করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। গত ৩০ জুন বাজেট পাসের দিন সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, দলীয় লোকদের সমর্থনের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সংসদের গত অধিবেশনে একাধিক সংসদ সদস্য আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন। এর মধ্যে জাসদের এমপি মইনউদ্দীন খান বাদল বলেছিলেন, আবদুল হাই বাচ্চু কি হিমালয়ের চূড়ায় থাকেন, যে আইন তাকে স্পর্শ করতে পারে না? বেসিক ব্যাংকের বর্তমান এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, দুদকও প্রভাবান্বিত হয়ে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির প্রধান হোতাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। বাচ্চুকে যদি দায়মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে নতুন করে দুদক আবার প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান সমকালকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে এখনও তিনি অবহিত নন। অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনও কমিশনে আসেনি। প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিটেও আসামি করা যায়। এ বিষয়ে কমিশনার (তদন্ত) সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সমকালকে বলেন, অনুসন্ধান প্রতিবেদন তিনি পাননি। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা কঠিন। বাচ্চু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংকটিতে ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবর নিয়ে তোলপাড় হয় দেশব্যাপী। ঋণ অনিয়মের কারণে গত বছরের ২৬ মে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত বছরের ৪ জুলাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান বাচ্চু। দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রায় অর্ধশত মামলার সুপারিশ করে শিগগির প্রতিবেদনগুলো কমিশনে পেশ করা হবে।

প্রথমে ব্যাংকের শান্তিনগর, দিলকুশা, গুলশান শাখা ও পরে মতিঝিলের স্থানীয় কার্যালয়ের ঋণ অনিয়ম অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কখনও জামানতবিহীন, আবার কখনও ভুয়া জামানত হিসেবে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ও বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সেসব ঋণ প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করে সরকারের ক্ষতি করা হয়েছে। উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম এ অনুসন্ধান সম্পন্ন করে। অনুসন্ধানকালে ঋণ মঞ্জুরির রেকর্ডপত্র ও ব্যাংক পর্ষদের ৩১০ থেকে ৩২১তম সভার রেজুলেশনের কপি, ঋণের আবেদন, প্রস্তাব, মঞ্জুরি, বন্ধককৃত সম্পদের নথি, ওইসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের বর্তমান অবস্থা, সিআইবি রিপোর্ট, ঋণ নবায়ন সংক্রান্ত অন্যান্য রেকর্ডপত্র জব্দ করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি ও কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে দুদকের হাতে। জানা গেছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৩ সালের প্রথম দিকে অভিযোগটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমকে। তিন শাখার ঋণ জালিয়াতির তদন্ত প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। জালিয়াতির মাত্রা ব্যাপক হওয়ায় বিশেষ টিম গঠন করে অনুসন্ধানের প্রস্তাব পেশ হয়েছিল কমিশনে। পরে কমিশন উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করেছিল। টিমলিডার শিবলী ওই সময় হলমার্ক কেলেঙ্কারি অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক আবুল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি কাজ শুরুর কয়েক দিন পর আবারও উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। অবশেষে উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযোগটির অনুসন্ধান শেষ করেছে।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•এডিবি রূপসা পাওয়ার প্লান্টে ৫০১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিবে •ভুটানের জনগণের জন্য ২০ কোটি টাকার ওষুধ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ •কমলো স্বর্ণের দাম •মহেশখালীতে ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর •বিশ্বব্যাংক মিয়ানমারে প্রকল্প অনুমোদন বন্ধ করেছে : অর্থমন্ত্রী •বিশ্বব্যাংক প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৭শ’ মিলিয়ন ডলার দেবে •ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মান উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ি নেতারা •২০২৪ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ : এলজিআরডি মন্ত্রী
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document