/* */
   Tuesday,  Sep 25, 2018   2 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : আছাদুজ্জামান মিয়া •বান্দরবানে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ •সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রথম বিদেশ সফর •জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ •রোহিঙ্গা বসতিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে : ইউএনডিপি •মর্যাদার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান •সংসদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮ পাস
Untitled Document

ভারতীয় গরুর বিকল্প প্রস্তুতি

তারিখ: ২০১৫-০৮-০১ ১৫:২১:৩৮  |  ২২০ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ডেস্ক নিউজ: ভারতে মোদি সরকারের কঠোর নীতিমালার কারণে সে দেশ থেকে গরু আমদানি অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। কঠোর পাহাড়া ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে যে পাঁচ শতাংশ গরু আসছে তার জন্যও গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে গরু মহিষের মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগহীনতার কারণে এবার চাহিদার ২০ শতাংশই অপূর্ণ থেকে যাবে। তবে আশার দিক হলো, ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ঘরে ঘরে গরু উৎপাদন ও মোটাতাজাকরণ শুরু হয়েছে। বিকল্প হিসেবে নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সে উদ্যোগও এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
জানা যায়, গত বছরের ২৬ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে গরুনীতিতে কঠোরতা আরোপ করতে থাকেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নেতা নরেন্দ্র মোদি। ধর্মীয় কারণে ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি গরু হত্যাকে মহাপাপ বলে গণ্য করে। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিএসএফকে নির্দেশ দিয়েছেন, গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে যাতে ‘বাংলাদেশের মানুষ গরু খাওয়া ছেড়ে দেয়’। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মুখপাত্র জিষ্ণু বসু বলেছিলেন, ‘একটি গরু হত্যা কিংবা পাচার একটি হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ অথবা একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের সমতুল্য।’
সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত বাঁশের লাঠি ও দড়ি নিয়ে, পাট ও ধানেেতর ভেতর দিয়ে এবং সাঁতার কেটে বাংলাদেশের বাজারে পাঠানো গরু ধাওয়া করছে ৩০ হাজার বিএসএফ জওয়ান। চলতি বছর এ পর্যন্ত বিএসএফ সদস্যরা ৯০ হাজার গবাদি পশু জব্দ এবং ৪০০ বাংলাদেশী ও ভারতীয় পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। বিএসএফের গুলিতে এ সময়ে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে তিনজন বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী। যার প্রভাব পড়েছে দেশের গোশতের দোকানগুলোয়। এক বছর আগে যেখানে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় গরুর গোশত বিক্রি হতো সেখানে ঢাকায় বর্তমানে ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি গরুর গোশত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফের গরু পাচারবিরোধী এই অভিযানের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর। এতে বলা হয়, ভারত থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে ২০ লাখেরও বেশি গরু পাচার হতো। গত চার দশক বছরে ৬০ কোটি ডলারের (৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা) এই বাজার বিকশিত হয়েছে যাকে বাংলাদেশ প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। অপর এক খবরে বলা হয়, বিজেপি নিজ উদ্যোগে তার দলীয় কর্মীদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করেছে। প্রতি জেলায় অন্তত ৫০ জন কর্মী বাংলাদেশে গরু পাচার প্রতিরোধে নিয়োজিত থাকবে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় গোশত রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মিটের পরিচালক সৈয়দ হাসান হাবিব জানান, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের রফতানি ৭৫ ভাগ কমাতে হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোয় বছরে ১২৫ টন গোশত রফাতানি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, ভারতের এই পদেেপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত ছয় মাসে গরুর গোশতের দাম প্রায় ৪০ ভাগ বেড়েছে। বন্ধ করে দিতে হয়েছে দু’টি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। হাবিব বলেন, আমরা এখন নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা করছি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ প্রভৃতি আঞ্চলের কৃষকেরা আবার আশায় বুক বাধতে শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, শুরু থেকেই গরুর ব্যাপারে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার নীতিটি আমাদের জন্য ভুল ছিল। পূর্ণ নির্ভরশীলতার কারণেই আমাদের কৃষকেরা গরু উৎপাদন ও লালন-পালনে উৎসাহ পায় না। কারণ, সারা বছর যে কৃষক অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করেন, কোরবানির আগে ভারত থেকে বিপুল গরু আসায় নিজ গরুর উপযুক্ত দাম পান না ওই কৃষক। ভারত থেকে গরু আমদানি দেশের জন্য তিকর মন্তব্য করে রবিউল আলম বলেন, তারা বাংলাদেশে গরু পাঠিয়ে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। সস্তা ভারতীয় গরুর কারণে দেশে গরু পালন বাড়ছে না। তিনি বলেন, প্রতি বছর কোরবানির সময় ভারত থেকে বানের পানির মতো গরু আসে বলে দেশের চাষিরা লোকসান দেয়। এতে গরু পালনে আগ্রহ বাড়ে না। নেপাল-ভুটান থেকে গরু আমদানির পাশাপাশি নিজ দেশের কৃষকদের গরু পালনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অপর দিকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক পরিবারগুলো তাদের সরকারের বর্তমান নীতিতে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছে। অনেক কৃষক পরিবারেই প্রধান বার্ষিক উপার্জনটি আসতো বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে গরু বিক্রির মাধ্যমে। কিন্তু এবার গরু বিক্রি করতে না পারলে তারা বিপদে পড়ে যাবে। তা ছাড়া গরুর খাবার সরবরাহের মতো সঙ্গতিও তাদের নেই।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document