/* */
   Tuesday,  Jun 19, 2018   06:31 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •বাংলাদেশের ঢাকায় কিভাবে কাটে তরুণীদের অবসর সময়? •রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮: ইতিহাসের বিচারে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে •বাংলাদেশের উপকূলের কাছে রাসায়নিক বহনকারী জাহাজে আগুন •ঈদের যুদ্ধবিরতিতে অস্ত্র ছাড়াই কাবুলে ঢুকলো তালেবান যোদ্ধারা •বিশ্বব্যাংক প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৭শ’ মিলিয়ন ডলার দেবে •ঢাকা মহানগরীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত •জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতির ঈদের নামাজ আদায়
Untitled Document

২০ প্রতিষ্ঠানের নামে ৬শ' কোটি টাকা লোপাট

তারিখ: ২০১৫-০৮-১২ ১৫:১২:৫৩  |  ১৮৬ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২৪টি ঋণ প্রস্তাবের নামে লোপাট করা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। ব্যাংকের ঋণ যাচাই কমিটির (ক্রেডিট কমিটি) কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চার মাসে পাঁচটি বোর্ড সভায় ওই ৬০০ কোটি টাকার ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু প্রভাব খাটিয়ে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের অনুমোদন দিয়ে ওই পরিমাণ টাকা ছাড় করিয়েছেন।

ওই ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের নথি ব্যাংক থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। এরপরও অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আসামির তালিকায় রহস্যজনকভাবে সাবেক ওই চেয়ারম্যানের নাম রাখা হয়নি। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, দুদকের চাহিদাপত্র অনুযায়ী জালিয়াতিপূর্ণ ঋণের সব ধরনের নথিপত্র ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কেলেঙ্কারির পুরো ঘটনা দুদক কীভাবে অনুসন্ধান করবে এটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে আসামি করা হবে-কি হবে না_ এ প্রশ্নের জবাবে দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সমকালকে বলেন, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনও কমিশনে আসেনি। শিগগির আসবে। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে প্রতিবেদনে
যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তারা যেই হন না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের পাঁচটি বোর্ড সভার মধ্যে ৩১০, ৩১১, ৩১৩, ৩১৪ ও ৩২৪ নম্বর সভায় ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪টি ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৬০০ কোটি টাকার এসব প্রস্তাব ব্যাংকের ঋণ যাচাই কমিটি কর্তৃক বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়নি। চেয়ারম্যানের গাইডলাইন অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছিল ওইসব ঋণ প্রস্তাব। এককভাবে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকের গুলশান, শান্তিনগর, দিলকুশা, মতিঝিলের স্থানীয় শাখা, কারওয়ানবাজার শাখা থেকে ওই পরিমাণ অর্থ ঋণের নামে প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল ৩১০ নম্বর বোর্ড সভায় এশিয়ান শিপিং বিডির নামে ৫০ কোটি টাকার জালিয়াতিপূর্ণ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ছাড় করা হয় ওই টাকা। একই সভায় গুলশান শাখার গ্রাহক ফারদিন ফিশ লিমিটেডের নামে ১৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ২৭ জুন অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩২৪ নম্বর সভায় গুলশান শাখার গ্রাহক মেগা ট্রেডার্সকে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ঋণ ও ক্যাশ ক্রেডিট লিমিট হিসেবে ৮ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় মেসার্স আনান সক্স, ওয়েল সোয়েটার্স, ওয়েল টেক্স লিমিটেডের নামে স্বল্পমেয়াদি ঋণকে (ডিমান্ড লোন) মেয়াদি ঋণে স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩১১ নম্বর সভায় কারওয়ান বাজার শাখার গ্রাহক মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের এসওডি লিমিট ৬৫ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় গুলশান শাখার গ্রাহক এআরএসএস এন্টারপ্রাইজের এসওডি লিমিট ৫০ কোটি, ঋণপত্র সীমা ১৫ কোটি ও ট্রাস্ট ঋণসীমা (এলটিআর) ১০ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ২৩ মে অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩১৩ নম্বর সভায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের নামে ১৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। সমন্বিত ঋণ সুবিধা হিসেবে তারিফ অটো ফ্লাওয়ার মিলসকে ১০ কোটি, মিমকো কার্বন কোম্পানিকে ২৫ কোটি, বাংলাদেশ ইয়েলো পেইজেস লিমিটেডকে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ আবদুল হাই বাচ্চু চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার ছয় বছরে ঋণ জালিয়াতির অনুসন্ধান ইতিমধ্যে শেষ করেছে দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০০৯ সাল থেকে ছয় বছর পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য উল্লেখ করা হলেও দুদকের দুই বছরের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য। ব্যাংকটিতে বাচ্চুর সময়কার এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ প্রায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ঋণের নামে ব্যাংকের অর্থ লোপাটে বাচ্চুর প্রভাব খাটানো, একক কর্তৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জালিয়াতির প্রচুর তথ্য দুদকের কাছে থাকলেও তার নাম আসামির তালিকায় রাখা হয়নি। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বাচ্চুকে আসামি করার বিষয়ে দুদক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিগন্যালের অপেক্ষায় আছে।
জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখায় ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২৩টি, শান্তিনগর শাখার ঘটনায় ২১টি, দিলকুশা শাখার ঘটনায় ৬টি ও মতিঝিলে স্থানীয় কার্যালয়ে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ৬টিসহ ৫৬টি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্ভাব্য আসামিরা হলেন_ ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম, ডিএমডি মো. সেলিম, এমদাদুল হক, ফজলুল সোবহান, প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটির সদস্য সচিব এ মোনায়েম খান, ডিএমডি কনক কুমার পুরকায়স্থ, প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটির মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান ও শাহজাহান মোল্লা, ডিজিএম খান ইকবাল হাসান, জিএম মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আশরাফুজ্জামান, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার ওই সময়কার ব্যবস্থাপক মো. জালাল উদ্দিন, এজিএম এসএম আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী, গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ, এ শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ এসএম জাহিদ হাসান প্রমুখ। এছাড়া দিলকুশা শাখা ও স্থানীয় কার্যালয়ের ওই সময়কার শাখা ব্যবস্থাপক, ঋণ প্রদানের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নানা স্তরের কর্মকর্তার নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•বিশ্বব্যাংক প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৭শ’ মিলিয়ন ডলার দেবে •ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মান উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ি নেতারা •২০২৪ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ : এলজিআরডি মন্ত্রী •রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক •একনেকে ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন •ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা বেতন চান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শ্রমিকরা •ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানির প্রস্তাব নাকচ •কম্বোডিয়ার সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document