/* */
   Sunday,  Jun 24, 2018   6 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : প্রধানমন্ত্রী •জাতীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন : রাষ্ট্রপতি •এমপি হোক আর এমপির ছেলে হোক কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল • তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা •নাইজেরিয়ার জয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বড় হলো •আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি •টেলিটকের ফোরজির জন্য অপেক্ষা আরো চার মাস
Untitled Document

ওরা তিনজন ছিল এলাকার আতঙ্ক

তারিখ: ২০১৫-০৮-২২ ১৫:০৯:১২  |  ২৫২ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্দুকযুদ্ধের পৃথক ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতাকর্মীর মৃত্যু ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ ঘটনাকে সঠিক বলেই দাবি করেছেন। তিনি জোরালোভাবেই বলেছেন, 'সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।' এদিকে ঢাকার হাজারীবাগ, মাগুরা ও কুষ্টিয়ার বাসিন্দাদের বেশির ভাগই সন্তোষ প্রকাশ করেছে আরজু মিয়া, আজিবর ও জাকিরের মৃত্যুতে। নিহতরা সন্ত্রাসী গ্রুপের নিয়ন্ত্রক ছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বুধবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, 'অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রদল কিংবা অন্য যেকোনো দলেরই সদস্য হোক না কেন, কেউ অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ছাত্রলীগ নেতা নিহতের ঘটনা ক্রসফায়ার ছিল না, বন্দুকযুদ্ধ ছিল। অপরাধীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীও তারবার্তা আগেই পৌঁছে দিয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।'

এদিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় একই দিনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'সমস্ত সংকটের সমাধান ক্রসফায়ার নয়। ফায়ারটা হতে হবে আদর্শের। ছাত্রলীগকে আদর্শের দিকে ধাবিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে এর রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে আর ছাত্রলীগকে ক্রসফায়ারে মারবে- এটা কাম্য নয়।'

হাজারীবাগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া : থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনায় হাজারীবাগে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাধারণ মানুষের মনে এ নিয়ে স্বস্তি ও সন্তোষ থাকলেও রাজনৈতিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, আরজু সন্ত্রাসী ছিলেন না।

হাজারীবাগের গণকটুলী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কয়েকটি গ্রুপ চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, হত্যাসহ নানা অপরাধে যুক্ত। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি। তাদেরই একজন ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া। র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত এ ছাত্রলীগ নেতার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল বলেই স্থানীয়দের দাবি।

অনেকেই অভিযোগ করে জানায়, ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আরজুর কাছে সবাই সহযোগিতা আশা করত। কিন্তু আরজু ছিলেন তার উল্টোটা। ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আরজু লোকজন পাঠিয়ে টাকা আদায় করতেন। উৎসবকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি করতেন। আরজুর ঘনিষ্ঠরাই কিশোর রাজাকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হাজারীবাগ থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরা যে দলেরই হোক, অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। কিশোর রাজাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাগর আহম্মেদ সানি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

নিহত কিশোর রাজার চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন, আরজুর মোবাইল ফোনসেট চুরি না করা হলেও চোর অপবাদ দিয়ে রাজাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরজু এর আগে রাজার চাচা শাহীনকে মোটরসাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করেছিলেন। আরজুর আশকারা পেয়েই সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া ছিল।

ওদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়াকে র‌্যাব বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক হামিদ সাজু, থানার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াফেজ আহমেদ সামি উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আরজুর পরিবারের সদস্যরাও। আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক হামিদ বলেন, 'ছাত্রলীগ নেতা আরজুর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনাটি কল্পকাহিনী। হাজারীবাগ এলাকা বিএনপির ঘাঁটি। গত নির্বাচনের পর এলাকায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পক্ষ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে উদীয়মান ছাত্রনেতা আরজুকে হত্যা করেছে।

মাগুরার আতঙ্ক আজিবর : মাগুরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মাগুরায় সোমবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আজিবরের নামে সদর থানায় তিনটি মামলা আছে। মঙ্গলবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধে আজিবরের মৃত্যুতে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দোয়ারপাড়ের সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মূল হোতা কামরুল ভূঁইয়ার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সী আছাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তিন মামলা ছাড়াও আজিবরের নামে বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। সে সংখ্যালঘু এলাকায় ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। তার কাছে একাধিক অবৈধ অস্ত্র ছিল। এ ছাড়া মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল সে। প্রাণভয়ে তার নামে অনেকে মামলা করেনি। স্থানীয়রা জানায়, বন্দুকযুদ্ধে নিহত আজিবর দোয়ারপাড় এলাকার আবদুুল মালেকের ছেলে। অনেকে তাকে 'বোমা মালেক' নামে ডাকে। আজিবর যুবলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। আজিবরের ভাই মুজিবর বিএনপির কর্মী। সে একাধিকবার অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।

এলাকায় টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির কাজে নেতারা আজিবরকে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি আজিবর দোয়ারপাড়ে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে যুক্ত হয়। তখন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়ার সঙ্গে এক হয়ে কাজ করলেও পরে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরেই ২৩ জুলাই দোয়ারপাড়ে কামরুলের বাড়িতে হামলা হয় আজিবরের নেতৃত্বে। তখন একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কামরুলের গর্ভবতী ভাবি গুলিবিদ্ধ হন। মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

নেতাদের কথায় চলত জাকির : কুষ্টিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানিয়েছে, শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোমিনুর রহমান মোমিজের সঙ্গে চলাফেরা এবং তার হুকুম তামিল করাই ছিল জাকিরের কাজ। একসময় মোমিজকে ছেড়ে প্রতিপক্ষ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজের গ্রুপে যোগ দেয়। সবুজের মামা দুলালের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে এবং একসময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পায়। অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত দুলালের নেতৃত্বে গত বছর জাসদ নেতা ইসমাইল হেসেন পাঞ্জেরকে হত্যা করা হলে নাম আসে জাকিরের। এ হত্যা মামলার এজাহারে দুলাল ১ নম্বর ও জাকির ৫ নম্বর আসামি। জাতীয় শোক দিবসে কুষ্টিয়ায় মোমিজ ও সবুজ গ্রুপের মধ্যে যে সংঘাত হয় জাকির সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে অনেকে। এ সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী সবুজ হোসেন নিহত হয়। এ মামলায়ও সন্দেহভাজন আসামি ছিল জাকির।

সূত্র. কালের কণ্ঠ


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি •ফারমার্স ব্যাংক থেকে মহীউদ্দীন আলমগীরের পদত্যাগ বেসিক ব্যাংকের দুই সাবেক পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ •বাংলাদেশে ৮ লাখ ১৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে : আইওএম •রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দশ হাজার লেট্রিন নির্মাণ করে দিবে ইউনিসেফ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document