/* */
   Friday,  Jun 22, 2018   1 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •সিসিলিতে ৫২২ অভিবাসী নিয়ে ইতালির উপকূলরক্ষী জাহাজের অবতরণ •সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পর্কে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য সচিবের আহ্বান •বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে : প্রধানমন্ত্রী •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •সৌদি আরবকে হারিয়ে রাশিয়াকে নিয়ে শেষ ষোলোতে উরুগুয়ে •গণভবনে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা •প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে গঠিত হতে পারে : ওবায়দুল কাদের
Untitled Document

শাহপরীর দ্বীপ হারিয়ে যাবে!

তারিখ: ২০১৫-০৮-২৩ ১২:৩৪:১৬  |  ৩৩০ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের এলাকা শাহপরীর দ্বীপের জনসংখ্যা ৪০ হাজার। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের অর্ধেক মানুষ ৩ বছর ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে। জোয়ার এলে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। ভাটায় পানি নেমে গেলে ঘরে ফেরেন। এরই মধ্যে দ্বীপের ৫ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। যারা রয়েছেন তারাও আতঙ্কে দিন যাপন করছেন, কখন বাড়িঘর সমুদ্র গ্রাস করে নেয়।
শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানালেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালের ৩ মে ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের আঘাতে দ্বীপের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যায়। বাকি যা ছিল তা প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্র গ্রাস করে নিয়েছে।
তার অভিযোগ, বাঁধ মেরামতের নামে যা হয়েছে তা দ্বীপের লোকজনের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়। দ্বীপে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটিও সমুদ্রের আগ্রাসনে তলিয়ে গেছে। ফলে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বসবাস করছে দ্বীপের ২০ হাজার মানুষ।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ। ভাটার সময় ভেসে ওঠে সড়কের ক্ষতবিক্ষত চেহারা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তৈরি ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়কটির ৫ কিলোমিটার ডুবে থাকে জোয়ারের পানিতে। ডুবে থাকা সড়কের ওপর নৌকা নিয়ে চলাচল করে দ্বীপের মানুষ। সন্ধ্যার পর এই নৌ চলাচলও বন্ধ থাকে।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'দ্বীপের মানুষ তিন বছর ধরে পানিতে বসবাস করে আসছে। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। বাঁধ মেরামতের নামে প্রতি বছর কোটি টাকা লুটপাট হয়। দ্বীপবাসীর জন্য কোনো কাজ হয় না।'
দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা গুদা আলীর বসতভিটা সাগরে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে টেকনাফের সাবরাং ডেইলপাড়ায় একটি ঝুপরি ঘরে বসবাস করছে তার পরিবার। তিনি বলেন, দুই মাস আগে দ্বীপের ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। সেখানে চাষাবাদের দেড় কানি জমি রয়েছে। তাতেও চাষাবাদ হচ্ছে না। ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে জোয়ারের পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মৌলভী আবদুস সালাম বর্তমানে বসবাস করছেন টেকনাফের নাইট্যংপাড়ায়। তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপ থেকে চলে আসতে হবে জানতাম। তাই আগে থেকে টেকনাফে একটি ছোট জমি কিনে রেখেছিলাম। তিন মাস আগে বসতভিটাটুকু সাগরে চলে গেলে পরিবার নিয়ে টেকনাফে চলে এসেছি। তিনি জানান, এ বছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে আরও অনেককে শাহপরীর দ্বীপ ছাড়তে হবে।
মৌলভী আবদুস সালাম ও গুদা আলীর মতো আরও অনেকে শাহপরীর দ্বীপের ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে এসেছেন। তাদের মধ্যে সুরাইয়া খানম, মো. ইসমাইল, সৈয়দ হোসেন, সবুরা খাতুন, সাদিয়া খানমসহ আরও অনেক রয়েছেন।
শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম জানালেন, প্রতি বছর ভাঙনে এলাকার মানুষ হারাচ্ছে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি। নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। জোয়ারের পানিতে ২ হাজার একর জমির লবণ চাষ বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড টেকনাফ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, শাহপরীর দ্বীপে ১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি, বালি ও বোল্ডার পাথর দ্বারা বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে ২০০৮ সালে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৪২ লাখ, ২০১০ সালে ৪ কোটি ৭৫ লাখ, ২০১১ সালে ৭ কোটি ২১ লাখ, ২০১৩ সালে ৮৩ লাখ ও ২০১৪ সালে ব্যয় হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। তিনি জানান, এই কয়েক বছরে সর্বমোট ৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের কাজ হলেও সমুদ্রের আগ্রাসনে তা রক্ষা করা যায়নি। ফলে লোকালয়ে প্রবেশ করছে জোয়ারের পানি।
সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রতি বছর বাঁধ মেরামতের নামে হরিলুট হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বছর ফের বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এভাবে বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের নামে অর্থ লুটপাট চায় না দ্বীপের মানুষ। তারা চায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্ষার শেষে কাজ শুরু করা হবে। তিনি জানালেন, স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে অনুুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি •ফারমার্স ব্যাংক থেকে মহীউদ্দীন আলমগীরের পদত্যাগ বেসিক ব্যাংকের দুই সাবেক পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ •বাংলাদেশে ৮ লাখ ১৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে : আইওএম •রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দশ হাজার লেট্রিন নির্মাণ করে দিবে ইউনিসেফ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document