/* */
   Monday,  Sep 24, 2018   9 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : আছাদুজ্জামান মিয়া •বান্দরবানে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ •সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রথম বিদেশ সফর •জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ •রোহিঙ্গা বসতিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে : ইউএনডিপি •মর্যাদার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান •সংসদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮ পাস
Untitled Document

বিপিসিতে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

তারিখ: ২০১৫-০৮-২৬ ১৩:৫৭:৫৩  |  ৪১৫ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি পণ্য আমদানি, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয়ের দেওয়া সম্প্রতি এক অডিট রিপোর্টে দুই হাজার কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। এই অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। আয় ও ব্যয়ে রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব। আর এ কারণেই বিপিসির আর্থিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিপিসির সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপর এই প্রথমবারের মতো 'এফিসিয়েন্সি অডিট' নামে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সিএজি অফিসের অধীনের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি নিরীক্ষক দল। অডিট রিপোর্টে ২৩টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য অনিয়মের মধ্যে রয়েছে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ডিজেল বিক্রয়, তেল বিক্রির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করা, বিপিসির নিজস্ব জমাকৃত টাকা ব্যয় না করে উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া ইত্যাদি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদনটি তৈরি করে নিরীক্ষক দল। চলতি বছরের জুনে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদ্দোজা সিএজির প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছেন। গত রোববার তার অফিসে সমকালকে তিনি বলেন, অডিটে অনেক আপত্তি রয়েছে যেগুলো ভিত্তিহীন। এসব অভিযোগের অধিকাংশই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। 'দুর্নীতি যে একেবারেই নেই, তা অস্বীকার করছি না'_ মন্তব্য করে বিপিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একা চেয়ারম্যানের পক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিপিসির দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দাতা সংস্থা আইএমএফ। আইএমএফ চাচ্ছে, বিপিসির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা আরও শক্তিশালী হোক। এ জন্য আন্তর্জাতিক অডিট ফার্মের মাধ্যমে বিপিসির অডিট করানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। বিপিসি বলেছে, এ বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম দিয়ে বিপিসির অডিট বা নিরীক্ষার বিষয়ে সিএজি অফিস যে মতামত দিয়েছে, তা জটিলতা তৈরি করেছে। সূত্র জানায়, সিএজি অফিসের দেওয়া মতামতে বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপিসির অডিট করানো ঠিক হবে না। কারণ, বাংলাদেশের সরকারি কোনো সংস্থাকে বিদেশি ফার্ম দিয়ে অডিট করার কোনো নিয়ম নেই। এটা করা হলে তা হবে বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সিএজি কার্যালয় থেকে গত মাসে এ মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিপিসিকে। বিপিসির চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, সিএজির মতামত শিগগিরই চিঠি দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। তার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানিতে গত পাঁচ অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কমে আসার কারণে এ খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি অনেক কমে এসেছে। ফলে এক সময় লোকসানে জর্জরিত বিপিসি এখন লাভের মুখ দেখছে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় গত অর্থবছরে বিপিসির প্রথমবারের মতো মুনাফা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।

সিএজির প্রতিবেদন :নিরীক্ষক দল প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করে দেখেছে যে, বিপিসির নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা জমা থাকার পরও ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে। এতে সংস্থারটির সুদ বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা। ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে বিপিসির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা জমা ছিল। এই অর্থ তারা খরচ করেনি। উল্টো তেল কেনার জন্য উচ্চ সুদে মোট ঋণ নেয় ১২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। ফলে ঋণ নেওয়ার জন্য সুদ বাবদ 'অতিরিক্ত' ক্ষতি হয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা। নিরীক্ষক দল বলেছে, বিপিসি ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে যদি ওই টাকা ব্যয় করা হতো, তাহলে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। ফলে উচ্চ সুদও গুনতে হতো না। এতে সরকারের ২৪৯ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।
অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা_ এ তিন বিপণন কোম্পানির তেল বিক্রির টাকা যথাসময়ে বিপিসির অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করার কথা। কিন্তু গত ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন এসব কোম্পানি তেল বিক্রির টাকা নিজেদের ব্যাংক হিসাবে জমা রেখেছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে ৫৯৫ কোটি টাকা।

বিপিসির আওতাধীন সীমান্তবর্তী ডিপোতে কোনো অবস্থাতেই আগের বছরের তুলনায় সর্বাধিক ১০ শতাংশের বেশি তেল সরবরাহ করার নিয়ম নেই। এ বিষয়ে আইনে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা অমান্য করে আলোচ্য দুই অর্থবছরে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর, বাঘাবাড়ী, পার্বতীপুর ও চটগ্রামের ডিপোতে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজার লিটার অতিরিক্ত ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করেছে পদ্মা অয়েল। এতে ৭৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজে জ্বালানি তেলের মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী শুল্ক ও ভ্যাট আদায় করেনি বিপিসি। আলোচ্য দুই অর্থবছরে বিপিসি যে পরিমাণ তেল আমদানি করেছে, নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করলে সরকারি কোষাগারে জমা হতো ৬১৮ কোটি টাকা। নিরীক্ষক দল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছে, ওই পরিমাণ রাজস্ব জমা হয়নি। ফলে সরকারের ৬১৮ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২০ হাজার ৭২৯ টন এলপি গ্যাস বিক্রি করে বিপিসি। এর পেছনে ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য দুই অর্থবছরে বিপিসিকে পাশ কাটিয়ে কম মূল্যে বিপণন কোম্পানিগুলো গ্যাসফিল্ড থেকে সরাসরি তেল কিনে বাজারজাত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এটি করতে পারে না বিপণন কোম্পানিগুলো। এতে ক্ষতি হয়েছে ৪০৫ কোটি টাকা। নিরীক্ষক দল বলেছে, এভাবে পরিবহন ঘাটতি দেখিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এতে ১৫২ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে ।
বিপিসি চেয়ারম্যনের বক্তব্য :বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদ্দোজা বলেন, অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু সমস্যা তো থাকতেই পারে। তার পরও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বিঘ্নে জ্বালানি তেলের সরবরাহ করে চলছে সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত কোথাও সংকট নেই। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বিপিসির কাজের পরিধি যেভাবে বেড়েছে, সে অনুযায়ী বাড়েনি জনবল। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা আছে, জনবল বাড়ালেই তা কেটে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য :সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিপিসিতে ব্যাপক দুর্নীতি আছে। তিনি বলেন, বিপিসির আর্থিক বিবরণীও স্বচ্ছ নয়। আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিপিসির অডিট করার পরামর্শ দেন তিনি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, সব সরকারি সংস্থারই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। বিপিসি বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেন করে। সে জন্য এই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি। বিপিসির আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব রঞ্জন কুমার চক্রবর্তী বলেন, দক্ষতা বাড়াতে হলে বিপিসির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা আরও শক্তিশালী করতে হবে।


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document