/* */
   Sunday,  Jun 24, 2018   8 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : প্রধানমন্ত্রী •জাতীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন : রাষ্ট্রপতি •এমপি হোক আর এমপির ছেলে হোক কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল • তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা •নাইজেরিয়ার জয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বড় হলো •আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি •টেলিটকের ফোরজির জন্য অপেক্ষা আরো চার মাস
Untitled Document

সূর্যশূন্য পৃথিবী

তারিখ: ২০১৫-০৮-৩১ ১২:৫০:৩৬  |  ১২২৮ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ডেস্ক নিউজ: অন্ধকারাচ্ছন্ন নভেম্বর। এবারের গুজবটা হালকাই বটে। এর আগে তো দিনক্ষণ ধরে পৃথিবী ধ্বংসের খবর রটেছিল। পৃথিবী তো টিকে আছে স্বাভাবিক নিয়মেই। অথচ এবারও মানুষ কান দিল কানাঘুষায়_ নভেম্বরে টানা ১৫ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলবে না। কেন গুজব ছড়ায়, আর তা গুজব জেনেও অনেকে আতঙ্কিত হয়_ এগুলো নিয়ে লিখেছেন জাহাঙ্গীর সুর
কলগাস গ্রহবাসীদের কাছে দিনের আলো ছিল ধ্রুব সত্য একটি ব্যাপার। কারণ তারা দেখেছে, ছয়টি সূর্য অবিরাম তাদের আলো বিলিয়ে যাচ্ছে। তাই ওই গ্রহবাসী কখনও অন্ধকার বা অচেনা রাতের মুখোমুখি হয় না। কেননা প্রতিটি সূর্যই কোনো না কোনো সময় মাথার ওপর থাকে। ফলে আলোহীন রাতের পরিস্থিতির মধ্যে ওই গ্রহবাসী পড়তে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু হঠাৎ একদিন তারা বুঝতে পারে, সব সূর্য একদিনের জন্য ডুবে যাবে। দুই হাজার বছর পর নেমে আসছে দীর্ঘ রাত। আর সেই রাতে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে এক হিংস্র উন্মত্ততায় এবং বলা বাহুল্য, হয়েছিলও তাই। এটি আইজ্যাক আজিমভের বিখ্যাত নাইটফল উপন্যাসেরই কাহিনী (আলোয় ভুবন ভরা ১৯ মার্চ ২০১৫ বিজ্ঞানবলয়ে প্রকাশিত)।

তাহলে ১৪ দিনের জন্য পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে যাবে তার পরিণাম কী?
সত্য আর মিথ্যা। ধরা যাক, এরা দুটো মানুষ। মার্ক টোয়েন বলছেন, সত্য যতক্ষণে জুতো পরবে পায়ে, ততক্ষণে মিথ্যা নাকি অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে ফেলবে। মানে সত্য শ্লথ, মিথ্যা মহাগতিশীল। মার্কিন এই রসিকের মৃত্যুর কয়েক দশক পর ইন্টারনেটের (যেখানে তথ্য ছোটে প্রায় আলোর গতিতে) যুগ আসে। এই সময়ের লেখক হলে মার্ক টোয়েন হয়তো বলতেন, সত্য জুতা পরতে পরতে সৌরজগতের অর্ধেক পথ মাড়াত মিথ্যা।
বাস্তবিক অর্থে গুজব এমনই গতিযুক্ত এক যুক্তিশূন্য তথ্য। যেমন কয়েক সপ্তাহ ধরে জনে জনে রটে গেছে_ নভেম্বরের দ্বিতীয় পক্ষে সূর্যশূন্য হয়ে পড়বে পৃথিবী। ১০ লাখ বছরের মধ্যে এই 'অতিবিরল অভিজ্ঞতা'র মুখোমুখি হচ্ছে মানুষ_ স্বয়ং নাসা (যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) নাকি এ খবর নিশ্চিত করেছে। বলেছে, সম্পূর্ণ আঁধারে ডুবে যাবে পৃথিবী। নিউজওয়াচ৩৩ ডটকম নামের গুজবে সাইটটি নাসাকে উদ্ধৃত করে (নিশ্চয়ই তা বানোয়াট) মহা-অন্ধকারের কারণ হিসেবে বলেছে, 'শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যকার একটি ঘটনায় নক্ষত্রহীন হবে নভেম্বর।'
কীভাবে?
প্রথমে গ্রহ দুটো খুব কাছাকাছি আসবে। তখন বৃহস্পতির দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকবে শুক্র এবং বৃহস্পতির চেয়ে ১০ গুণ উজ্জ্বল হবে শুক্রগ্রহ। সেই আলোয় উত্তপ্ত হবে বৃহস্পতির গ্যাস। এতে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন নির্গত হবে মহাশূন্যে। সেই গ্যাস সূর্যের সংস্পর্শে আসামাত্র সৌরপৃষ্ঠে ঘটবে বিস্টেম্ফারণ। এতে এক লাফে তাপমাত্রা বাড়বে ৯ হাজার ডিগ্রি কেলভিন। বিস্টেম্ফারণ সামলাতে সূর্য তখন কেন্দ্র থেকে তাপ নির্গত করবে। এই তাপের কারণে সূর্য হবে আলোকহীন নীলাভ নক্ষত্র। এই দশা কাটিয়ে লাল তারা হয়ে জ্বলে উঠতে সূর্য সময় নেবে প্রায় ১৪ দিন।
গুজবে প্রতিবেদনে এও লেখা হয়েছে_ নাসার প্রশাসক বোল্ডিন বলেছেন, এই ব্ল্যাকআউটে তেমন কোনো প্রভাব আমরা লক্ষ্য কর ছি না। বড় জোর পৃথিবীর তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি বাড়তে পারে। কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আলাস্কায় প্রতি শীতে একই রকম অবস্থা থাকে।
গুজবের শেষ বাক্যে বলা হয়েছে_ মানুষকে শান্ত রাখার জন্য নাসা যা-ই বলুক না কেন, 'এবার কিছু হতে চলেছে'।
কী হতে চলেছে? না, তা আর বলা লাগেনি রটনাকারী ওই সাইটের। গুজবের গল্পটা টেনে বড় করেছে জনগণ ও গণমাধ্যমগুলো।
কথায় বলে_ গুজব এক কান দিয়ে ঢুকে হাজার মুখ দিয়ে বেরোয়। এক্ষেত্রে যেমন দেখা গেল। ইন্টারনেটের (অপ)কল্যাণে কানাকানি হতে থাকল, দুই-তিন রাত পর বিরক্ত হয়ে যাবে মানুষ। ছড়িয়ে পড়বে নানাবিধ ব্যাধির প্রকোপ। বিদ্যুতের সংকট দেখা যাবে। বিভিন্ন ধরনের লাইট বিক্রি বেড়ে যাবে। বাড়বে আত্মহত্যার ঘটনা ইত্যাদি আরও অনেক জল্পিত-কল্পিত ভীতিগাথা। কী জানি, এই লেখা পড়তে গিয়ে আপনিও এ রকম ভয়ঙ্কর কিছু ভাবছেন কি-না!
২০১২ সালে নাসাকে এ রকম একটি বিবৃতি দিতে হয়েছিল, যখন গুজব ছড়িয়েছিল_ ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর যেদিন নাকি মায়ান পঞ্জিকার শেষ দিন, সেদিন পৃথিবীরও শেষ দিন। সে রকম কিছু হলে এই লেখা না আমি লিখতাম, আর না আপনি এটা পড়তেন।
গুজবে কান দিই কেন?
বেশিরভাগ গুজব মানুষ বিশ্বাস করে না। কিন্তু জেনেশুনে মিথ্যা, অমূলক বিভ্রান্তিটা ছড়াতে থাকে। কোনো কোনো গুজবে অবশ্য অনেক মানুষ, বিশেষত প্রান্তিক এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ভয় পেয়ে যায়। কেন মানুষ তাহলে গুজবে কান দেয়, গুজব ছড়ায়?
এ বিষয়ে গবেষণা করেন মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নিকোলাস ডিফঞ্জো। রোচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এ অধ্যাপক, যার ডাকনাম নিক, গুজব আর মানুষের মনোস্তত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষণা করছেন, লিখছেন।
নিজের চিন্তাচেতনা ও গবেষণা বিষয়ে লিখেছেন 'দ্য ওয়াটারকুলার ইফেক্ট :আ সাইকোলজিস্ট এক্সপ্লোরস দি এক্সট্রাঅর্ডিনারি পাওয়ার অব রিউমারস'। ওই বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন, কেন মানুষ গুজব করে। নিক বলেছেন, মানুষমাত্রই গুজবকারী। বিষয়টিকে সহজে তুলে ধরতে সাইকোলজি টুডেতে এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন এই বিজ্ঞানী। সেখানে তিনি বলছেন, গুজব করা মানুষের সভ্যতাপ্রাচীন স্বভাব। গুজব ছড়ানোর পেছনে মানুষের দুটো মৌলিক কারণও নাকি রয়েছে। নিকের ভাষায় :
এক. মানুষ সামাজিক ও সম্পর্কবান্ধব জীব। কথাটার বড় একটা অর্থ হলো, মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে চায়।
দুই. মানুষ কল্পনাপ্রিয় প্রাণী। প্রাচীনকাল থেকেই নারী ও পুরুষ কোনো কিছু নিয়ে কল্পনা ও অনুমান, চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্বাস ও বাছাই করতে তার বুদ্ধিকে ব্যবহার করেছে।
গুজব 'তৈরি ও ফেরি' করার আর কোনো মৌলিক কারণ আছে? জানতে চেয়েছিলাম ডিফঞ্জোর কাছে। এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী বলেন, 'তৃতীয় মৌলিক কারণটা হলো, মানুষ হুমকি মোকাবেলাকারী সত্ত্বা।' ডিফঞ্জো ব্যাখ্যা করলেন, 'গুজব কখনও কখনও হুমকির বেশেও আসে। আর গুজবের সুবাদেই আমরা হুমকি-ধামকি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হই বা তা প্রতিহত করতে উদ্যত হই।'
মনোবিজ্ঞানী নিকোলাস ডিফঞ্জো তাই সিদ্ধান্ত টেনেছেন, 'আমরা যত দিন ধরে অনিশ্চয়তার সঙ্গে বসবাস করছি, তত দিনই গুজব আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ছিল।'


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ॥ •নবম ওয়েজ বোর্ডের কার্যক্রম শুরু •কলাপাড়ায় শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপি প্রদান ॥ •খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ •ফিলিপাইনে ঝড়ের আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ •শেখ হাসিনাকে ‘বোন’ ডাকলেন হুন সেন •তুর্কি বাহিনীর সিরিয়ায় প্রবেশ •কবিসংসদ বাংলাদেশ-এর ২৯৯তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document