/* */
   Tuesday,  Sep 25, 2018   3 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : আছাদুজ্জামান মিয়া •বান্দরবানে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ •সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রথম বিদেশ সফর •জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ •রোহিঙ্গা বসতিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে : ইউএনডিপি •মর্যাদার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান •সংসদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮ পাস
Untitled Document

রাজধানীর খাল নিয়ে বিভ্রান্তি

তারিখ: ২০১৫-০৯-২১ ১৩:৩৩:৪৬  |  ২৮৮ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নাহিদ তন্ময়: রাজধানীতে খালের সংখ্যা কত? রাজধানীর খাল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা বলছে ২৬। অন্যদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালের সংখ্যা ৫০। ঢাকা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) ঢাকায় মোট খালের সংখ্যা ৪৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াসার হিসাবে ১২টি এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে ২৪টি খাল আংশিক প্রবহমান বলা হয়েছে। বাকি খালগুলোর বেশির ভাগ অবৈধ দখলে বিলুপ্ত, কিছু আবার আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে বিলুপ্তির পথে।

এ অবস্থায় বিলুপ্তপ্রায় খাল পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। তবে এ প্রস্তাবনা তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে করপোরেশন। প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ড্যাপের পৃথক তিনটি ম্যাপ সংগ্রহ করে নতুন একটি ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এ তিনটি ম্যাপের একটির সঙ্গে আরেকটির মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সিটি করপোরেশনের এ কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি তৈরি করা ম্যাপটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, রাজধানীর ২৬টি খাল ঢাকা ওয়াসাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সংস্কারের কাজ চলছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি খালগুলোও দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের খালের তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঢাকা ওয়াসাকে যে কয়টি খাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার তালিকাই ঢাকা ওয়াসার কাছে রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ঢাকা জেলা প্রশাসন আরও খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয়, তবে তা সংস্কারে কাজ করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা নিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনই ব্যাপক সমালোচনায় পড়ে। পরে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে রাজধানীর খালগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)- এ তিন সংস্থার ম্যাপের মধ্যে অনেক স্থানেই মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যে ওয়াসার ম্যাপ দেখে স্পষ্ট অনুমেয়, তারা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেনি। খাল সংরক্ষণে সংস্থাটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এই ম্যাপ ধরে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব। তবে ঢাকা জেলা প্রশাসকের ম্যাপ অনেক বেশি তথ্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, খালের হিসাব-সংক্রান্ত এ জটিলতা কাটাতে ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) দেখা হয়েছে। সেখানে ৪৩টি খালের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাই নতুন করে সিটি করপোরেশন রাজধানীর খাল শনাক্ত করে একটি ম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে যেসব পরিবেশবাদী সংগঠন খাল নিয়ে কাজ করেছে, তাদের সঙ্গেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ঢাকা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের প্রথম দিকে রাজধানীর খালগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সার্ভেয়ারদের যত দ্রুত সম্ভব খালের অবস্থান শনাক্ত করে একটি ম্যাপ তৈরির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী সার্ভেয়াররা ৫০টি খাল চিহ্নিত করে একটি ম্যাপ তৈরি করেছেন। যোগাযোগ করা হলে খাল শনাক্ত করার কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে এ নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আংশিক প্রবহমান যেসব খাল: ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রস্তুত করা ম্যাপ থেকে দেখা যায়, নলি খাল, দ্বিগুণ খাল, কল্যাণপুর খাল, মেরুল খাল, ডুমনী-কাঁঠালদিয়া খাল, কামরাঙ্গীরচর খাল, বেগুনবাড়ী খাল, মহাখালী খাল, গুলশান খাল, গুল্লার খাল, নাসিরাবাদ-নিগুর এপ্লাইদ খাল, হাইক্কার খাল, রায়েরবাজার খাল, কালুনগর খাল, রাজাবাজার খাল, ধানমণ্ডি খাল, পরীবাগ খাল, মেরাদিয়া-গজারিয়া খাল, জোয়ারসাহারা খাল, ডুমনী খাল, বাউথার খাল, নাসিরাবাদ-নন্দীপাড়া খাল, দক্ষিণগাঁও- নন্দীপাড়া খাল, আরামবাগ খাল, গোপীবাগ খাল, ধলপুর খাল, ধোলাইখাল, যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল-মাণ্ডা খাল, ডিএনডি বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাল, জিয়া সরণি খাল,শ্যামপুর-কদমতলী খাল এবং কদমতলী খাল আংশিক প্রবহমান রয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে এবং পরিবেশবিদদের সঙ্গে আলাপে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যেসব খাল আংশিক প্রবহমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার অধিকাংশই দৃশ্যত নালায় পরিণত হয়েছে। আবার বাস্তবে কিছু খালের অস্তিত্বও নেই। প্রায় পৌনে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দিয়াবাড়ী খাল ও বাউনিয়া খাল দুটি সচল থাকলেও এরই মধ্যে রাজউক তা অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। খাল দুটি সংস্কার করে লেক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রাজউকের। আবদুল্লাহপুর খালের কিছু অংশ প্রবহমান থাকলেও বাকি অংশে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ব্লক বসিয়ে সংস্কারকাজ করছে। তবে খালের পানি চলাচলের জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ১২ ইঞ্চি পাইপ বসিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। মৌসাইদ খাল বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তবে এ খালের পাশে কোনো স্থাপনা নেই। দেওয়ানপাড়া খালের অধিকাংশ অংশ সচল থাকলেও ব্লু-মুন হোটেল কর্তৃপক্ষ ইটের দেয়াল ও টংঘর তৈরি করে কিছু অংশ দখল করে রেখেছে।

বিলুপ্তির পথে যেসব খাল: তুরাগ নদ থেকে শুরু হওয়া কোটবাড়ী খালের অধিকাংশ অংশে দুই পাশে ময়লা ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বাকিটুকুর দুই পাশে ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকায় বাইশটেকী খালে প্রবাহ নেই দীর্ঘদিন। ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ইব্রাহিমপুর খাল। রামচন্দ্রপুর খাল-২ এরই মধ্যে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সরাইজাফরাবাদ খালের আংশিক প্রবহমান থাকলেও অধিকাংশ অংশ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কিছু অংশ ভরাট করে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী (জিরানী) খালের একাংশ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে স্থানীয়রা। খালের মাঝামাঝি স্থানে কালভার্ট তৈরি করে রাস্তার সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠ-বাঁশ-স্টিল দিয়ে ৩৫টি ব্র্রিজ ও সাঁকো তৈরি করা হয়েছে, যে কারণে এরই মধ্যে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়ে খালটি বিলুপ্তির পথে।

অবৈধ দখলে যেসব খাল: ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের মৌসাইদ গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানার জুমাই খালের বেশির ভাগ অংশ ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থান দেখে খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এ খালের পাড়ে কোনো স্থাপনা নেই। সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বোয়ালিয়া খালের মাত্র দেড় কিলোমিটার প্রবহমান রয়েছে। বাকি অংশে বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির অধিগ্রহণকৃত জমি এবং দুটি আবাসিক প্রকল্পের ভরাটকৃত বালু পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। কিছু অংশ কচুরিপানায় পরিপূর্ণ। অনেক স্থানে খালের অস্তিত্বও দেখা যায় না। দুয়ারীপাড়া খালটি ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ এবং কিছু অংশে সেমিপাকা অবকাঠামো তৈরি করে স্থানীয়রা দখল করে নিয়েছে। আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জোয়ারসাহারা-কাঁঠালদিয়া খালের অধিকাংশ অংশ ভরাট করে প্লট তৈরি করা হয়েছে। এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কাঁঠালদিয়া খালেরও বেশির ভাগ অংশ দখল করে প্লট তৈরি করা হয়েছে। বরাবো খাল বর্তমানে রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গোপদক্ষিণ খালের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব সমকালকে বলেন, ওয়াসার পক্ষ থেকে ১২টি খাল প্রবহমান বলা হলেও বর্তমানে ২১টি খাল বর্ষা মৌসুমে প্রবহমান থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এ খালগুলো সারা বছর প্রবহমান রাখা সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব বিষয়ে উদাসীন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বক্স-কালভার্টগুলো ভেঙে হলেও খাল উদ্ধার করতে হবে। ওয়াসার গাফিলতির কারণে খালগুলো নালায় পরিণত হয়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। বাপার পক্ষ থেকে খাল উদ্ধারের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে সরকারের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই প্রস্তাবনায় দেখানো হয়েছে, কত সহজেই রাজধানীর ২৬টি খাল উদ্ধার করে সচল রাখা সম্ভব।

সূত্র. সমকাল


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document