/* */
   Monday,  Dec 17, 2018   06:40 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব

তারিখ: ২০১৫-১২-০১ ১৭:৪৩:১৬  |  ৩১৪ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ক. মোহর প্রদান : স্ত্রীর প্রতি স্বামীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে সন্তুষ্টচিত্তে তার মোহর পরিশোধ করে দেয়া (সূরা আন নিসা, আয়াত ৪)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘‘অবশ্য পূরণীয় শর্ত হচ্ছে, যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌনাঙ্গকে নিজের জন্য হালাল মনে করো।’’ অর্থাৎ মোহর।

 

 

 

 

 

 

খ. ভরণ-পোষণ : মহান আল্লাহ বলেন, وَعلَى الْمَوْلُوْدِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ‘‘পিতার কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণ-পোষণ করা।’’ (সূরা আল বাকারাহ, আয়াত ২৩৩) الرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ ‘‘পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এজন্য যে, পুরুষরা তাদের নিজেদের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে।’’ (সূরা আন নিসা, আয়াত ৩৪) أَسْكِنُوْهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِّنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوْهُنَّ لِتُضَيِّقُوْا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوْا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ- لِيُنفِقْ ذُوْ سَعَةٍ مِّنْ سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ ‘‘তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেরূপ গৃহে বাস কর তাদেরকে সেরূপ গৃহে বাস করতে দিবে; তাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে না সঙ্কটে ফেলার জন্য; তারা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করবে...।

বিত্তবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন তা হতে ব্যয় করবে।’’ (সূরা আত তালাক, আয়াত ৬-৭)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف ‘‘তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা তোমাদের দায়িত্ব।’’

হাকীম বিন মু‘আবিয়া (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, হে রাসূলুল্লাহ! স্বামীদের উপর স্ত্রীদের কী হক? তিনি বলেন, ‘‘সে যা খাবে তাকেও (স্ত্রী) তা খাওয়াবে, আর সে যা পরিধান করবে তাকেও তা পরিধান করাবে। আর তার (স্ত্রীর) মুখমন্ডলে প্রহার করবে না এবং তাকে ঘর হতে বের করে দিবে না।’’

গ. সদ্ব্যবহার : মহান আল্লাহ বলেন, وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ‘‘তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে।’’ (সূরা আন নিসা, আয়াত ১৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।’’ 

তিনি আরো বলেন, واستوصوا بالنساء خيرا، فإنهن خلقن من ضلع، وإن أعوج شيئ فى الضلع أعلاه، فإن ذهبت تقيمه كسرته، وإن تركته لم يزل أعوج، فاستوصوا بالنساء خيرا. ‘‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে (পুরুষের) পাঁজরের হাড় থেকে। আর সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’’ 

ঘ. স্ত্রীদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠা : যদি কারো একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (সূরা আন নিসা, আয়াত ১২৯)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একটি দিন ও রাত নির্ধারিত করতেন। অবশ্য সাওদা বিনত যাম‘আ ব্যতীত। কেননা, তিনি (বার্ধক্যের কারণে) তাঁর পালার দিনটি আয়িশার জন্য দান করেছিলেন।

অন্য একটি হাদীসে এসেছে, আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মৃত্যুকালীন রোগের সময় তাঁর সকল স্ত্রীকে আহবান করেন। আমরা সকলে একত্রিত হলে তিনি বলেন, (বর্তমানে) তোমাদের সকলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে (পালাক্রমে) অবস্থানের ক্ষমতা আমার নেই। কাজেই তোমরা সকলে যদি অনুমতি দাও, তবে আমি (অসুস্থতার) দিনগুলো আয়িশার নিকট কাটাতে চাই। তখন সকলেই তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘যার দু’জন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধাঙ্গ অবশ অবস্থায় উত্থিত হবে।’’

স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:
ক. স্বামীর আনুগত্য করা : স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إذا صلت المرأت خمسها، وصامت شهرها، وحفظت فرجها، وأطاعت زوجها، قيل لها: أدخلى الجنت من أى أبواب الجنت شئت. ‘‘কোন মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমযানের রোযা রাখে, নিজের সতীত্বকে রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে তাকে (কিয়ামতের দিন) বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো।’’ 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন,
لا يصلح لبشر أن يسجد لبشر، ولو صلح لبشر أن يسجد لبشر لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها، لعظم حقه عليها. ‘‘কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা বৈধ হত তাহলে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক বড় হওয়ায় স্ত্রীকে আদেশ করতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে।’’

তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোন পাপের কাজে নির্দেশ প্রদান করে তাহলে স্ত্রী সে নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করবে; কখনো মানবে না। ইমাম বুখারী (র) সহীহ বুখারীতে এর প্রমাণে যে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন তা হচ্ছে- আয়িশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে বিয়ে দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, তার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল লাগিয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না তা করো না। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কৃত্রিম চুল পরিধানকারিণীদের ওপর অভিসম্পাত করেন।

খ. স্বামীর আমানত রক্ষা করা : স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও অপকর্ম থেকে হিফাযত করা এবং স্বামীর অর্থ-সম্পদের আমানত রক্ষা করা স্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। মহান আল্লাহ বলেন, فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّهُ ‘‘সাধ্বী স্ত্রীরা হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হিফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে তার হিফাযত করে।’’ (সূরা আন নিসা, আয়াত ৩৪)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘‘তিনটি জিনিস সেŠভাগ্যের নিদর্শন। ১. ঐ স্ত্রী যাকে দেখলে তুমি বিমুগ্ধ-বিমোহিত হও এবং তার কাছ থেকে দূরে থাকলে তার সতীত্ব ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাক। ২. দ্রুত পথ চলতে সক্ষম ঐ বাহন, যে তোমাকে তোমার সফরসঙ্গীদের নাগাল পাইয়ে দেয়। ৩. প্রশস্ত ও আরামদায়ক বাড়ি।’’

গ. স্বামীর যৌন দাবী পূরণ : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘‘স্বামী যখন স্ত্রীকে শয্যা গ্রহণের আহবান করে তখন সে যদি তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে তাহলে সকাল হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার প্রতি লানত করতে থাকেন।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘স্বামী যখন (যৌন) প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডাকবে, তখন সে চুলায় রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর ডাকে সাড়া দিবে।’’


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ অপরিহার্য : ধর্মমন্ত্রী •আমতলীতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা পরিষদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত •প্রত্যেক উপজেলায় মসজিদ-মন্দিরসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প •রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন •ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার এখন মক্কায় •খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী •বিয়ে বাঁচাতে যখন অচেনা লোকের সাথে রাত কাটাতে হয় •যুক্তরাজ্যে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় দেড়'শ মসজিদ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document