/* */
   Tuesday,  Sep 25, 2018   2 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : আছাদুজ্জামান মিয়া •বান্দরবানে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ •সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রথম বিদেশ সফর •জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ •রোহিঙ্গা বসতিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে : ইউএনডিপি •মর্যাদার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান •সংসদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮ পাস
Untitled Document

দুই দিন ধরে ঘড়ে আটকে রেখে লোহার রড আর বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম.এক গৃহবধূকে ,যৌতুকের জন্য

তারিখ: ২০১৭-০৩-০৫ ০০:২৩:৩৪  |  ২২১ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ।।  
বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামে নার্গিস নামে এক গৃহবধূকে  ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবীতে স্বামী সেলিম খন্দকার কর্তৃক ২ দিন ধরে ঘড়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনে ওই গৃহবধূর একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে স্বামী। বন্দী দশা থেকে পালিয়ে এসে শনিবার সকাল ১০টায়  চাচা এবং মায়ের সহযোগিতায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে নির্যাতিত গৃহবধূ নার্গিস বেগম।
আমতলীর নাচনাপাড়া গ্রামের মৃত্যু সিদ্দিকুর রহমান মোল্লার স্ত্রী নির্যাতিত নার্গিস বেগমের মা রিজিয়া বেগম জানান, ২২ বছর পূর্বে ১৯৯৫ সালে আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের  হাসেম খন্দকারের ছেলে সেলিম খন্দকারের সাথে বাবাহীন এতিম নার্গিসের বিয়ে  হয়। বিয়ের সময় চাচা জাকির মোল্লা এবং মাইঠা গ্রামের সমাজ সেবক  ছত্তার আকনের সহযোগিতায় সেলিম খন্দকারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সংসারের সকল মামাল যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিয়ের পর নার্গিসের কোল জুরে  আলামিন (১২), ফারজানা (৯) ও জান্নাতী  (৪) নামে তিনটি সন্তান আসে। বিয়ের পর থেকে নার্গিসকে বাবার বাড়ি থেকে স্বামী সেলিম বিভিন্ন সময় টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। স্বামীকে খুশী করার জন্য নার্গিস তার চাচার নিকট থেকে মাঝে মধ্যে টাকা এনে দিত। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী সেলিমের অল্প টাকায় মন ভরত না। নার্গিসের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যৌতুক লোভী স্বামী সেলিমের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। গত কয়েক দিন ধরে নার্গিসকে তার চাচা এবং মায়ের নিকট থেকে ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে নার্গিসকে। বাবাহীন দরিদ্র মা এবং চাচার পক্ষেএত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে নার্গিগের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খরগ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নার্গিসকে  বাঁশের লাঠি এবং লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ঘড়ে আটকে রাখে। এভাবে দু’দিন ধরে ঘড়ে আটকে নির্যাতন করে পাশন্ড শেলিম খন্দকার। নির্যাতনে নার্গিসের ডান চোখটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চোখে রক্ত জমা হয়ে এখন ঝাপসা দেখছেন নার্গিস। বাম পায়ে বাঁশের আঘাতে ভেঙ্গে ফুলে গেছে। শারা শরীর এবং মাথায় আঘাতের কারনে ফুলে গেছে। মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। আটক অবস্থা থেকে  শনিবার সকালে সন্তানদের ফেলে পালিয়ে এসে চাচা জাকির মোল্লা এবং মা রিজিয়া বেগমরে সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় নার্গিস আমতলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আমতলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় অসহ্য ব্যাথায় কাতরাচ্ছে নার্গিস বেগম। ডান চোখে আঘাতের কারনে লাল রক্ত জমাট বেধে আছে। বাম পা বাঁশের লাঠি এবং রডের আঘাতে ভেঙ্গে ফুলে গেছে। কান্না জরিত কন্ঠে নার্গিস জানায় ‘মোর বাবা নাই এতিম মানুষ মায় মানসের কাম হইরা খায় মোর কাছে স্বামী  ৫০ হাজার টাহা চায়। মুই এত টাহা দিমু কই গোনে। টাহা দিতে পারি নাই বইল্লা বাঁশ আর লোহার রড দিয়া ডিডাইয়া মোর এমন দশা করছে। দ্যাহেন ছার মাইরা মোর চউখ নষ্ট করছে পা ভাইঙ্গ্যা দেছে মুই এহন জামু কই’। কথাগুলো শেষ হতে না হতেই আবার কন্নায় ভেঙ্গে পরেন নার্গিস।
নার্গিসের চাচা জাকির মোল্লা জানান, নার্গিসের ৭ বছর বয়সের সময় ওর বাবা সিদিদ্দক মোল্লা মারা যান। মারা যাওয়ার পর ১২ বছর বয়সের সময় এতিম মেয়েটাকে আমরা টাকা পয়সা খরচ করে এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে মাইঠা গ্রামের হাসেম খন্দকারের ছেলে সেলিম খন্দকারের নিকট বিয়ে দিয়েছি।  এখন মেয়েটাকে দু’দিন ধরে ঘড়ে আটকে রেখে যে ভাবে নির্যাতন করছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই।
নার্গিস বেগমের মা রিজিয়া বেগম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, দ্যাহেন মোর মাইয়াডারে মাইরা হরছে কি। আমরা এর বিচার চাই।
আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো: হারুন অর রশিদ জানান, নার্গিসের ডান চোখে আঘাতের কারনে রক্ত জমে লাল হয়ে আছে। বাম পা লাঠির আঘাতে ফুলে গেছে। মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে  আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে  পাওয়া যায়নি।  (০১৭৩৪০০৩৩০৩) মোবইল নম্বরে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়।  
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্লাহ জানান, নির্যাতনের ব্যাপারে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 



এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•আগামী নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে : প্রধানমন্ত্রী •শ্রেষ্ঠ বিট অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কলাপাড়া থানার এস আই নাজমুল ॥ •রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় বিশ্ব নেতারা •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •বিপন্ন রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী •নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর মঙ্গলবার •রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির •দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document