/* */
   Tuesday,  Sep 25, 2018   3 PM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : আছাদুজ্জামান মিয়া •বান্দরবানে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ •সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রথম বিদেশ সফর •জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ •রোহিঙ্গা বসতিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে : ইউএনডিপি •মর্যাদার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান •সংসদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮ পাস
Untitled Document

রোজায় মোদীর সম্প্রীতির বার্তা, কিন্তু বাস্তবতা কী?

তারিখ: ২০১৭-০৫-২৮ ২৩:৪৪:১৩  |  ১৫১ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নরেন্দ্র মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রমজান মাসের শুরুতে আজ তার বিশেষ রেডিও ভাষণে বলেছেন, সে দেশে যে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষজন একসঙ্গে থাকেন - এটা ভারতের বিরাট গর্বের জায়গা।

'মন-কি-বাত' শীর্ষক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও মুসলিম সমাজের নেতারা কিন্তু বলছেন আজকের ভারতে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের সম্প্রদায়কে চরম আতঙ্কে রেখেছে।

এমন কী পর্যবেক্ষকরাও অনেকেই মনে করছেন, ভারতে আজ যে ধরনের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশ দেখা যাচ্ছে তা এ দেশের আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে আদৌ খাপ খায় না।

প্রতি মাসের শেষ রবিবারে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে 'মন-কি-বাত' ভাষণ দেন, তাতে আজকের পর্বটি ছিল রমজান স্পেশাল। সেখানে দেশবাসীকে ও বিশেষত মুসলিমদের রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এদিন দাবি করেন, ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের মানুষরা কীভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে ভারতীয়রা সেটা সবচেয়ে ভাল জানেন।

ছবির কপিরাইট   কলকাতায় প্রথম রোজায় ইফতারি

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "রমজানের পবিত্র মাসে বিশেষ গুরুত্ব পায় প্রার্থনা, আধ্যাত্মিকতা আর দান-ধ্যান। আর আমরা সোয়াশো কোটি ভারতীয় এ নিয়ে গর্ব করতে পারি যে বিশ্বের সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেন। আস্তিক ও নাস্তিক, পৌত্তলিক কিংবা মূর্তিপূজার বিরোধী - সবাই কীভাবে এখানে পাশাপাশি থাকতে পারেন, সেই কলা আমাদের মজ্জায়।"

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনতে ভাল লাগলেও প্রতিদিনকার খবরের কাগজ কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য কোনও আশার ছবি তুলে ধরতে পারছে না - বিবিসিকে বলছিলেন আসামের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এমপি সিরাজুদ্দিন আজমল।

তিনি বলছেন, "সরকার যে সব-কা-সাথ সব-কা-বিকাশের কথা বলছে আমরা তো তাতেই ভরসা রাখতে চাই। কিন্তু গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি তো সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভাল মানুষ, কিন্তু তার আশেপাশের লোকজন তো হিন্দু-মুসলিম একতার ভাবনা রাখতে চাইছেন না। ভারতের ধর্মীয় বুনট তাতে নষ্ট হচ্ছে।"

 শাসক দল বিজেপি বা তাদের ঘনিষ্ঠ লোকজনদের নানা কাজকর্মে মুসলিমদের শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বলেই তার দাবি।

সিরাজুদ্দিন আজমলের কথায়, "এই যে ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি - তাতে সার্বিকভাবে ভারতের মুসলিমরা খুবই শঙ্কিত। তাদের ধর্মীয় আচার পালনের ওপর আঘাত আসছে, তাদের ঘরবাড়ি বা মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আমাদের আসামে মুসলিমদের সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোটেই কোনও ভাল সংকেত যাচ্ছে না - মুসলিমরা খুবই ভয় পাচ্ছেন।"

অথচ প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন - সেই সব ধর্মকে নিয়ে চলাটাই ছিল ভারতের চিরকালীন ইতিহাস, বলছিলেন গবেষক ও অধ্যাপক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

"শুধু তো মুসলিম ভাবধারা নয়, এই ভারতে বৌদ্ধরাও ছিলেন - যাদের সঙ্গে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধ ছিল, বৌদ্ধিক বিরোধ। তারপর ছিলেন শিখরাও, যাদের চিন্তাধারা একটু অন্যরকম। মুসলিম শাসকরা আসার পরে তারাও কিন্তু অনেকেই হিন্দু সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করেছেন।"

"বাদশাহ আকবর থেকে শুরু করে অনেক মুসলিম রাজা-রাজড়াই এই দলে পড়বেন। যেমন আমাদের বঙ্গেও ছিলেন মহম্মদ বরবক শাহ। তাদের প্রত্যেকের সভাতেই হিন্দু সভাসদরা ছিলেন", বলছিলেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

আজ ভারতের বিজেপি সরকার যখন তিন বছর পূর্ণ করেছে, তখন কিন্তু দেশে সে ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না ড: ভাদুড়ী।

"যত মত তত পথের এই দেশে আজ চারপাশে যা-সব শুনছি, সেগুলো কিন্তু খুব ভাল কথা নয়। অনেক মুসলিম গ্রেট আছেন আমাদের এ দেশে, তাদের বলা হয়েছে পাকিস্তানে চলে যান। এগুলো আমাদের কাছে খুব অস্বস্তিকর ঠেকে!

'সুতরাং এখন প্রধানমন্ত্রী 'মন-কি-বাতে' যেটা বলছেন সেটা যদি 'কাম-কি-বাত'ও হয়, তার পারিষদরা যদি সত্যিই সেই অনুযায়ী চলতে পারেন তখনই কেবল আমাদের ভাল লাগবে', বলছিলেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

ফলে প্রধানমন্ত্রী মুখে আজ যা বলছেন - তার সরকার যতক্ষণ না সেটা কাজেও করে দেখাতে পারছে এবং রাশ টানতে পারছে মুসলিম-সহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক হামলায় - ততক্ষণ ভারতের পরিস্থিতিকে কিছুতেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলা যাবে না বলেই অনেক বিশেষজ্ঞর অভিমত।বিবিসি বাংলা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•এটাই মোদির নৃশংস নতুন ভারত': গোরক্ষকদের পিটুনিতে মুসলিম যুবক হত্যা নিয়ে রাহুল গান্ধীর টুইট •তিন তালাক ফতোয়া: শ্বশুরের সাথে রাত কাটাতে বাধ্য হয় শাহবিনা •বাংলাদেশের উপকূলের কাছে রাসায়নিক বহনকারী জাহাজে আগুন •ভারতে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু •ভারতের মহারাষ্ট্রে দলিত ও কট্টর হিন্দুদের সংঘর্ষ, দেড়শ বাসে আগুন •মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ, উৎকণ্ঠায় অধীর আসাম •মোদি অমিতাভের চেয়ে বড় অভিনেতা'রাহুল গান্ধী •রোহিঙ্গা সঙ্কট: কলকাতায় মুসলিমদের বিক্ষোভ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document