/* */
   Monday,  Dec 17, 2018   12:33 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

ভ্যাটের জটিলতা নিরসন জরুরি

তারিখ: ২০১৭-০৬-২৭ ১৭:৪১:২৭  |  ২২৯ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ইংরেজি সংক্ষিপ্ত VAT শব্দটির পূর্ণরূপ হলো Value Added Tax. ভ্যাটকে বাংলায় সংক্ষেপে বলা হয় মূসক, যার পূর্ণরূপ— মূল্য সংযোজন কর। ভ্যাট বা মূসক একটি পরোক্ষ কর। সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে ইউরোপের অধীনস্থ রাষ্ট্র ফ্রান্সে ভ্যাট প্রবর্তিত হয়। অতঃপর অপরাপর রাষ্ট্র ফ্রান্সকে অনুসরণ করে। আমাদের দেশে ভ্যাটের প্রবর্তন ১৯৯১ সালে।

দেশী পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়, বিদেশী পণ্য আমদানি ও রফতানি, দেশাভ্যন্তরে সেবা বা পরিষেবার উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়— সর্বক্ষেত্রে মূসক আরোপযোগ্য। এ কর উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে আরোপ ও আদায় করা হলেও এর দায়ভার চূড়ান্তভাবে কেবল পণ্য বা সেবার ভোক্তাকে বহন করতে হয়। মূসক আরোপের মাধ্যমে আবগারি শুল্ক, বিক্রয় কর ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে।

আমাদের দেশে প্রথমে কিছু পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ওপর মূসক আরোপ করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে অধিকাংশ পণ্য এবং বেশকিছু সেবা, পরিষেবা, আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় মূসকের আওতায় আনা হয়েছে। কালক্রমে মূসক সরকারের কর রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মূসকের হার নির্ধারণ এবং এর আদায় ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্বে নিযুক্ত।

যেকোনো ভোক্তাপণ্যের উৎপাদন-পরবর্তী এবং চূড়ান্ত বিক্রয়ের সময় ভ্যাট বা মূসক আরোপ করা হয়। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদক পণ্যটি বাজারজাত করার সময় এর ওপর ভ্যাট প্রদান করেন এবং শেষোক্ত ক্ষেত্রে পণ্যটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে একজন ভোক্তার কাছে বিক্রয় করা হয়, তখন ভোক্তা ভ্যাট বা মূসক প্রদান করে থাকেন। একজন ভোক্তা যে পরিমাণ ভ্যাট প্রদান করেন, সেটি হলো পণ্যমূল্য থেকে পণ্যে ব্যবহূত উপকরণের মূল্য বিয়োজন পরবর্তী যে মূল্য দাঁড়ায়, তার ওপর দেয় কর। পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে পণ্য প্রস্তুতে যেসব উপকরণ ব্যবহার হয়, সেগুলোর ওপর উৎপাদক ভ্যাট প্রদান করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি টেলিভিশন উৎপাদনের সময় এতে ব্যবহূত যাবতীয় সরঞ্জামের ওপর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদান করে। পরবর্তীতে টেলিভিশনটি একজন বিক্রেতার দোকানে বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকাকালে যখন ক্রেতা ক্রয় করেন, তখন তাকে প্রযোজ্য ভ্যাট প্রদান করতে হয়।

একজন প্রস্তুতকারক কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যে আমদানিকৃত সরঞ্জামাদি বা দ্রব্য ব্যবহার করলে তিন পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের উপক্রম ঘটে। প্রথমত. আমদানিকারক বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় দ্রব্যের আমদানিকৃত মূল্যের ওপর ভ্যাট প্রদান করেন। অতঃপর প্রস্তুতকারক পণ্যটি বাজারজাতের সময় এর ওপর ভ্যাট প্রদান করেন এবং সর্বশেষ পণ্যটি যখন পাইকারি বা খুচরা পর্যায়ে ক্রেতার কাছে বিক্রয় করা হয়, তখন ক্রেতা এর ওপর ভ্যাট প্রদান করেন।

উন্নত বিশ্বের যেসব দেশে ভ্যাট চালু রয়েছে, সেসব দেশে একটি পণ্যের আমদানি, উৎপাদনের মাধ্যমে প্রস্তুত এবং ক্রেতার কাছে বিক্রির জন্য উন্মুক্তকরণ— এর প্রতিটি পর্যায়ে যে মূল্য সংযোজন হয়, তার ওপর ভ্যাট প্রদেয় হয়। উপরোক্ত তিনটি পর্যায়ের কোনটিতে কী পরিমাণ ভ্যাট প্রদেয় হবে— তা সেসব দেশের কর আদায়কারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে। এ কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ভ্যাট ভিন্নতর হয়। সংযোজিত মূল্যের ওপর ভ্যাট প্রদেয় বিধায় চূড়ান্ত পর্যায়ে একজন ক্রেতাকে কখনো একটি পণ্যের সামগ্রিক মূল্যের ওপর ভ্যাট প্রদান করতে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে কর আদায়কারী কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তাদের ভ্যাট বিষয়ে অস্বচ্ছ ধারণার কারণে দেখা যায়, একজন ক্রেতাকে সামগ্রিক পণ্যমূল্যের ওপর ভ্যাট প্রদানে বাধ্য করা হয়।

একটি পণ্যের আমদানি, প্রস্তুত ও বিক্রয়— এ তিন পর্যায়ে ভ্যাট ভিন্নতর হওয়ায় এবং এর আদায় জটিলতর বিধায় সম্প্রতি বিশ্বের অনেক উন্নত রাষ্ট্র ভ্যাট প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে জিএসটি অর্থাত্ গুডস অ্যান্ড সেল ট্যাক্স নামক একটি নতুন ধরনের কর পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। এ কর পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে দেখা গেছে, ভ্যাটের মাধ্যমে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো, এ নতুন ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে তেমন প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। তাছাড়া পদ্ধতিটির মাধ্যমে কর আদায় সহজতর বিধায় এটি আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক ও ক্রেতা— সবার কাছে সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

আমাদের দেশে বিদ্যমান ভ্যাট আইন অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর বিভিন্ন হারে উেস কর আরোপ করা হয়। পরে ওই পণ্যের বিক্রেতা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যখন চূড়ান্তভাবে ভ্যাট দেয়, তখন এনবিআর অগ্রিম দেয়া উেস কর তার সঙ্গে সমন্বয় করে। বর্তমানে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম ভ্যাট আরোপ করা হয়। বিভিন্ন পণ্য আমদানি বা কাঁচামাল সংগ্রহ পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা এ ভ্যাট দেন। আসন্ন বাজেটে সর্বক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়ার সপক্ষে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভ্যাট আইন কার্যকর করার জন্যই অগ্রিম ভ্যাটের একক হার প্রবর্তনের প্রস্তাব।

এনবিআরের দাবি— ভিন্ন ভিন্ন হারে অগ্রিম ভ্যাট কর্তনের ফলে প্রশাসনিক হিসাবগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সহজ করতে সর্বক্ষেত্রে এর হার ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাট ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন করার ফলে ভোক্তা কর্তৃক চূড়ান্ত ভ্যাট প্রদানের সময় ব্যবসায়ী কর্তৃক প্রদত্ত অগ্রিম সমন্বয় করতে অতীতের জটিলতা দূর হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে, সর্বক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম ভ্যাট ক্ষেত্রবিশেষে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যবসায়ীরা যেসব ক্ষেত্রে উেস কর প্রদান করেন, তার একটি অংশ তারা ভোক্তা কর্তৃক চূড়ান্ত ভ্যাট প্রদান-পরবর্তী ফেরত পাওয়ার কারণে তাদের জন্য ভ্যাট সহনীয় কিন্তু হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর একজন ভোক্তাকে যখন সামগ্রিক খাওয়ার বিলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হয়, তখন এটি যেকোনো ভোক্তার জন্য অসহনীয় মনে হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এনবিআরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ভোক্তা কর্তৃক প্রদত্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের এক বড় অংশ সরকারের রাজস্ব আদায়ের খাতায় জমা করেন না। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ভোক্তাদের দাবি সত্ত্বেও ভ্যাট আদায়ের জন্য এনবিআরের নির্ধারিত ফরম ভোক্তাকে প্রদানে ব্যর্থ হন।

গ্যাস, বিদ্যুত্ ও ল্যান্ডফোন— এ তিনটি সেবাধর্মী খাত হলেও গ্যাসের ক্ষেত্রে ভোক্তার কাছ থেকে কোনো ধরনের ভ্যাট আদায় করা হয় না। অন্যদিকে বিদ্যুত্ ও ল্যান্ডফোন বিলের ওপর যথাক্রমে ৫ ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপপূর্বক আদায় করা হয়। এ তিনটি সমধর্মী সেবা খাত হওয়ায় যখন একটির ওপর ভ্যাট আরোপযোগ্য নয়, তখন অন্য দুটির ওপর ভ্যাটের হারের ভিন্নতা যেকোনো বিবেচনায় যৌক্তিক নয়। 

ভ্যাট বিষয়ে সাধারণ মানুষের অভিমত, ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে যথারীতি ভ্যাট আদায় করলেও তার সম্পূর্ণ অংশ সততা বজায় রেখে সরকারের তহবিলে জমা দেন না। এ ভ্যাটের অর্থ ব্যবসায়ী ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে কীভাবে ভাগাভাগি হয়, তা এখন আর কারো অজানা নয়। 

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারীভাবে বিভিন্ন ধরনের জরিমানার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে আসছে। জরিমানার ওপর এ ধরনের ভ্যাট আদায় ভ্যাট আইনের আওতাবহির্ভূত। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রাজউক কর্তৃক ব্যক্তি বরাবর বরাদ্দকৃত প্লটের ওপর বাড়ি নির্মাণে বিলম্বের কারণে বছরের হিসাবে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হয়। 

কর বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যে স্বীকৃত নীতি তা হলো, একজন ব্যক্তি কোনোভাবেই একই কর দুবার পরিশোধ করবেন না। আমাদের দেশে আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারক কর্তৃক পণ্যের ওপর ভ্যাট প্রদানের পরও ক্রেতার কাছ থেকে সামগ্রিক পণ্যটির ওপর ভ্যাট আদায়ের কারণে একই পণ্যের ওপর দেখা যায় তিনবার পর্যন্ত ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। এতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রস্তুতকারক ও চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্রেতা।

ভ্যাট নিঃসন্দেহে একটি আধুনিক কর পদ্ধতি। এটি প্রতিটি পর্যায়ে সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপ করা হলে পণ্যের মূল্য সহনীয় থাকবে এবং একজন প্রস্তুতকারক ও ক্রেতাকে একাধিকবার কর প্রদান থেকে রেহাই দেবে। কিন্তু আমাদের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা ভ্যাট আইন ও ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতি বিষয়ে সঠিকভাবে অবহিত না হওয়ার কারণে আরোপ ও আদায় উভয় ক্ষেত্রে জটিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ জটিলতা নিরসনের জন্য রাজস্ব বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শুধু সংযোজিত মূল্যের ওপর কোন পর্যায়ে ভ্যাটের হার কী রূপ হবে। সামগ্রিক পণ্যমূল্যের ওপর অন্যায় ও বেআইনিভাবে ভ্যাট আদায়ের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আর তাতে ব্যবসায়ী ও ভ্যাট আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা লাভবান হলেও চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ বা ভোক্তা।

 

লেখকসাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক.বণিক বার্তা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•শেখ মুজিব হত্যার পর জেনারেল জিয়া যে মন্তব্য করেছিলেন •নজরুলের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান •২০১৭ সালের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল •পরাজিত শক্তির ব্যাপারে সদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে . .লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল •নির্লোভ একজন সফল মানুষ লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল •তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে .. লায়ন গনি মিয়া বাবুল •বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজ-নিজ এলাকায় এমপিদের কাজ করার আহবান
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document