/* */
   Monday,  Dec 17, 2018   12:16 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান •মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ •মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার •নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে ‘রাজনৈতিক’ সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া •টেকনোক্রেট কোন মন্ত্রী কেবিনেটে থাকছেন না : ওবায়দুল কাদের •বেগম রোকেয়া দিবস কাল •আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ . বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ
Untitled Document

বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা-সক্ষমতায় এবারের বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন

তারিখ: ২০১৭-০৬-২৭ ১৭:৫৬:০২  |  ২১০ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতেও স্নাতকোত্তর করেন। পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রেরই বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন শুরু ১৯৬২ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে। ১৯৬৪ সালে যোগ দেন সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি)। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিতর্ক, রাজস্ব আহরণ, এডিপি বাস্তবায়ন, আর্থিক খাতের অবস্থা, সুদের হারসহ নানা বিষয়ে এ অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন(জিডিপিপ্রবৃদ্ধি  শতাংশের নিচে হবে। তবে সরকার বলছে বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধিহবে  দশমিক ২৪ শতাংশ।  সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

নিঃসন্দেহে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে। সরকারের বিনিয়োগ পরিসংখ্যানের সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাতের সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগ। বর্তমান অর্থবছরে (যা ৩০ জুন শেষ হবে) সরকারের হিসাবে সার্বিকভাবে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত হচ্ছে ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ; যা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ দিয়ে ভাগ করলে প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। কিন্তু সরকার বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্য যেসব পরিসংখ্যান রয়েছে যেমন— রফতানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সপ্রবাহ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ইত্যাদি পরোক্ষ সূচক বিবেচনায় নিলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত সরকারের ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হয় না। আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত দরকার ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাত্ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩০ দশমিক ২৭ থেকে ৩ শতাংশেরও বেশি হতে হবে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত। ২০০৬ থেকে ২০১৭ অর্থবছর, ১২ বছরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এক বছর থেকে আরেক বছরে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাতে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের বেশি হয়নি। কেবল ২০১১ অর্থবছরে বিগত বছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছিল। আগামী এক বছরে ৩ শতাংশের উপরে বিনিয়োগ-জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা আমি দেখতে পাই না। সরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির খুব একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রী বলেছেনএবারের বাজেট শ্রেষ্ঠ বাজেট। আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

অর্থমন্ত্রী কোন বিবেচনায় এবারের বাজেটকে (২০১৭-১৮) শ্রেষ্ঠ বলেছেন, তা জানি না। তবে এটা নিশ্চিত এবারের বাজেট সর্ববৃহত্ বাজেট। আর এখানে ‘বৃহত্’-এর মাত্রাটা বেশি। এবার আসা যাক বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা প্রসঙ্গে। গত পাঁচ বছরে বাজেটের আকার যেমন বেড়েছে, তেমনি কমে যাচ্ছে বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা। ২০১২ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছিল ৯৩ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে তা কমে হয়েছে ৭৮ শতাংশ। এবার বাজেটের আকার অনেক বড়, সে তুলনায় আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়গুলো আমলে নিলে এ আকারের বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন। যেমন— চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এখন বাকি তিন মাসে আমি যদি এ ব্যয় দ্বিগুণও করি, তাহলে ব্যয় হবে ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এবার আসা যাক বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। বাকি তিন মাস অর্থাত্ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ ব্যয় যদি তিন গুণ হিসেবে ধরে নিই, তাহলে ব্যয় হবে ৯৯ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা এবং ২০১৮ অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এডিপির আকার বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।

জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এনবিআর কর্তৃক রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। পরে এ অংক সংশোধন করে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। খুব বেশি হলে এটি ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করবে না। আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, যা গেল অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। এখানে আমি কয়েকটি সূচকে বৃদ্ধির মাত্রা উল্লেখ করেছি মাত্র। এগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করবে সরকার। এবারের বাজেট যে বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সে সম্পর্কে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

বাজেট এত বড় কেন করা হলোএর পেছনের কারণ কী বলে মনে করেন?

বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া মুশকিল। তবে বড় বাজেট মানে আমরা দেশের অনেক উন্নতি চাই— বিষয়টি বুক ফুলিয়ে বলা কিংবা দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে, ভবিষ্যতে আরো উন্নতি হবে— এটা দেখানোর একটা চেষ্টা। এদিকে বছর শেষে বাজেটের বাস্তবায়ন কতটুকু হবে, তার হিসাব আমরা করছি না। বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য পড়লাম, সেখানে আগের বাজেট কী মাত্রায় বাস্তবায়ন হয়েছে বা কেন হয়নি, তা নিয়ে কোথাও কোনো উল্লেখ দেখতে পেলাম না কিংবা বাজেট বাস্তবায়নে অকৃতকার্যতাগুলো রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তা নিয়েও বাজেট বক্তব্যে কোনো আলোচনা নেই। 

এবারের বাজেটে  লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা হয়েছে। এত বড় এডিপি বাস্তবায়নের সক্ষমতাআমাদের আছে কী?

প্রত্যেক মাসেই একনেকের সভায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। যদিও বছর শেষে দেখা যাবে এগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। রাজনীতিবিদরা হয়তো মনে করেন, আমি যদি কোনো এলাকার এমপি হই, তাহলে সেখানে গিয়ে জনগণকে বলতে পারব, ‘দেখুন, আমি আপনাদের জন্য এত বড় একটি প্রকল্প অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছি।’ পরবর্তীতে ওই প্রকল্প কতটকু বাস্তবায়ন হলো, তার খোঁজ কেউ নিতে যায় না। তাই বলা যায়, হয়তো ভোট অর্জনের ক্ষেত্রে বড় আকারের বাজেট কিছুটা ভূমিকা পালন করতে পারে বা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এমনটা মনে করেন। এছাড়া আমি বড় বাজেট দেয়ার কোনো বস্তুনিষ্ঠ কারণ দেখতে পাই না।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার এবার বৈদেশিক ঋণসহায়তা থেকে অনেক বড় অংকের অর্থ পাবে বলে আশা করছে।  প্রসঙ্গে আপনারঅভিজ্ঞতা কী বলে?

বৈদেশিক ঋণের যে আকার ধরা হয়েছে, বাজেটে তা পাওয়া সম্ভব নয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ— এ নয় মাসে বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া গেছে ২ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ বছরে বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি বা প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। ২ হাজার ৫১১ কোটি টাকা থেকে ৫২ হাজার কোটি টাকা— বিষয়টি আমার কাছে মোটেই বোধগম্য নয়। পাইপলাইনে অনেক অনুমোদিত প্রকল্পের টাকা রয়েছে, অনুমোদিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে বৈদেশিক ঋণসহায়তা থেকে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ আসতে পারত। পাইপলাইনে অর্থ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের নেই। ফলে অর্থ আসছে না। এক বছরে আমাদের কী এমন পরিবর্তন করবে সরকার, যাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা ঋণ আসবে?

সরকারের অনুন্নয়ন ব্যয় বাড়ছে। এটি কমিয়ে আনার সুযোগ আছে কি?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমানোর সুযোগ আছে, তবে তা একদিনে সম্ভব নয়। কারণ যারা সরকারি চাকরিরত, তাদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা জোর করে অবসরে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত অসুবিধা আছে। এছাড়া আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটেও এটা কাম্য নয়। তবে যেটা করা যেতে পারে তা হলো, যারা অবসরে যাচ্ছেন, সে শূন্যস্থানগুলো আর পূরণ না করলেও চলতে পারে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় আমি একটি বিশ্লেষণ করেছিলাম, সেখানে দেখেছি— আমাদের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো অনেকটা ‘বটম হ্যাভি পিরামিড’ ধাঁচের। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে ব্যয় হয়, তা সামগ্রিক ব্যয়ের সিংহভাগ। এদের বেশির ভাগই কোনো উত্পাদনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। এখন প্রায় অনেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন, তাই আলাদা করে কারো জন্য টাইপিস্ট কিংবা সেক্রেটারি রাখার দরকার নেই। পিয়ন থেকে শুরু করে এ ধরনের পদে প্রচুর লোক কর্মরত, এখানে লোকবল কমিয়ে বেতন-ভাতা খাতের খরচ কমানো যেতে পারে। তবে এটা এক বছরে করা যাবে না, পাঁচ থেকে ছয় বছরের দীর্ঘমেয়াদি সময় নিতে হবে।

আগামী অর্থবছরে  হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বলা হচ্ছেসরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকের যেলোকসান হয়তার জন্য  অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি বছরই অর্থ দেয়া হচ্ছেতার সুফল কি আমরা পাচ্ছি?

সরকারি কার্যক্রমের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লোকসান হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। এখানে সরকারিভাবে যে কৃষিঋণ দেয়া হচ্ছে, তা স্বল্প সুদে দিলেও ব্যাংকগুলোর ‘কস্ট অব ফান্ড’ তার চেয়ে বেশি নয়। কারণ তাদের আমানতের চেয়ে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে না। দুই. বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হ্রাসকৃত হারে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য অর্থ পায়। কাজেই এটাও কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও দক্ষতার অভাব থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ প্রদান ও পরিশোধের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন। এসব কারণে ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। ব্যাংক তো একটি বাণিজিক প্রতিষ্ঠান, তাকে বছরের পর বছর মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ দেয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আবার না দিয়েও কোনো উপায় নেই। কেননা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় গ্রাহকের সংখ্যা অনেক, কাজেই ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ অর্থসহায়তা প্রয়োজন। তবে এটা তো চিরন্তন কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ব্যাংকগুলোকে এক কিংবা দুই বছরে চূড়ান্ত ডেডলাইন দিয়ে তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে, ব্যাংকগুলোর দক্ষতা বাড়াতে হবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের দুর্বল দিকগুলো কী?

আমার কাছে এবার বাজেটে দুর্বল দিক দুটো— এক. অতিমাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা। দুই. বাদ দেয়া বা বর্জন করা। আমি মনে করি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাজেটে উল্লেখ থাকা উচিত ছিল কিন্তু সে বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই বা সেগুলো নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। যেমন— ভর্তুকি। সচ্ছল ব্যক্তিকে ভর্তুকি না দিয়ে অসচ্ছল ব্যক্তিকে ভর্তুকি দেয়ার ব্যবস্থা করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, তা সবাই পায়। সারের ওপর ভর্তুকির কথাই যদি বলি, তাহলে দেখা যায় গরিব কৃষকের পাশাপাশি ধনী কৃষকও ওই ভর্তুকি পাচ্ছেন। এতে ধনী কৃষকের জমি বেশি হওয়ায় ভর্তুকির সুবিধাও তারা বেশি পাচ্ছেন। ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তা নিয়ে বাজেটে কোনো উল্লেখ নেই।

এছাড়া সেসব প্রতিষ্ঠান সরকারের গ্যারান্টি দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে, তাদের বিষয়গুলোও বাদ রাখা হয়েছে বাজেটে। রফতানি, রেমিট্যান্স, পুঁজিবাজার— এ বিষয়গুলোর ওপর বাজেটে খুব একটা উল্লেখ নেই, তবে উন্নতির আশা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে বাড়বে কিংবা বাড়ানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা সরকার ভাবছে, সে সম্পর্কে বাজেটে কোনো আলোচনা নেই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট এডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছিল। দেখা যাচ্ছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এখানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা খাতের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতেও বরাদ্দের পরিমাণ কমে গেছে। আমরা মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা বলছি কিন্তু এ উন্নয়নের নেপথ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা যেখানে মূল চাবিকাঠি, সেখানে এ খাতগুলোয় যদি বরাদ্দের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কীভাবে মানবসম্পদের উন্নয়ন হবে। ইউনেস্কো থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হয়। আমরা এর ধারে-কাছেও নেই।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী প্রসঙ্গে বলব, এখানে সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, তবে বাজেটে এ খাতে কতটা বরাদ্দ দেয়া হবে তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। কিংবা বাজেটের আনুপাতিক হারে এটা বেড়েছে না কমেছে, তাও বলা হয়নি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আমি এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বাড়িয়েছিলাম, যা ছিল বাজেটের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং জিডিপির আনুপাতিক হার হিসাবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের বাজেটে তা কমে দাঁড়িয়েছিল বাজেটের ১৪ শতাংশ, আর জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা থেকে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে নাকি বেড়েছে, তা পরিষ্কার নয়।

বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হবে ১০ দশমিক  শতাংশ। এটা ক্রমাগত বাড়ছে

বাংলাদেশ এখনো বিশ্বব্যাংক, এডিবির কনসেশনাল লোনের তালিকায় রয়েছে। কাজেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমরা যে ঋণ নিচ্ছি, তার সুদের হার বাড়েনি। আপনি যে সুদের ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, সে ব্যয়ের ৯০ শতাংশের বেশি যায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের ওপর। ব্যাংক থেকে নিলেও ব্যয়বহুল, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নিলেও ব্যয়বহুল। এখন পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের সুদ আমাদের ওপর খুব একটা চাপ সৃষ্টি করেনি। তবে যা হচ্ছে তা হলো, কিছু ক্ষেত্রে সাপ্লায়ারস ক্রেডিটের মাধ্যমে এ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের ব্যাপারে আরো সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হওয়া উচিত। 

বলা হচ্ছেএবারের বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর চাপ ফেলবে। বিষয়টি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই

একটা সময় আমাদের একক ভ্যাটের মধ্যে যেতে হবে। তবে আমাদের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে ধরনের চর্চা বিদ্যমান, সেটা বিবেচনায় নিলে আমরা এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছেনি। দুই. ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর প্রসঙ্গ। আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় অনুযায়ী এটা অনেক বেশি। এছাড়া এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায়ও আমাদের দেশে এ হারটা অনেক বেশি। যেমন থাইল্যান্ডের জনগণের মাথাপিছু আয় আমাদের দেশের তুলনায় সাত থেকে আট গুণ বেশি, সেখানে তাদের ভ্যাটের হার ৭ শতাংশ। ভ্যাটের হার এক বছরে হঠাত্ করে না বাড়িয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ানো যেতে পারত।

২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে মূল্য সংযোজনের ওপর কর বসাতে হলে প্রতিটি স্তর থেকে তথ্য নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা কি যথাযথভাবে সেই তথ্যদিতে প্রস্তুত?

ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয়ের তথ্যের রেকর্ডই হয়তো নেই। যেহেতু তথ্য নেই, তাই কর আদায়কারীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বোঝাপড়া হতে পারে। এছাড়া উত্পাদনের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। প্র্রতিটি স্তরে যদি একটি পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন করা হয়, তাহলে এর দাম অনেক বেড়ে যাবে। কাজেই এ সবকিছু বিবেচনা করে সময় নিয়ে এটি করা উচিত ছিল।

আয়কর নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই

যেহেতু দুই বছর আগে আয়করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এবারের বাজেটে এটি বৃদ্ধি করা যেত। এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় আমাদের মূল্যস্ফীতির হার বেশি। সেসব বিবেচনায় আমার মনে হয় আয়করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি করা উচিত ছিল।

সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছেআপনি কি মনে করেন মধ্যবিত্ত শ্রেণী  পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা অনেকেই মনে করেন, সুদের ওপর কর বসানো উচিত নয়, যদিও এটা এখন আর গৃহীত হয় না। কারণ কেউ তো অবৈধ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখে না, বৈধভাবে উপার্জিত অর্থই সবাই জমা রাখে আর ওই অর্থ উপার্জন করার সময় কর দেয়া হয়েছে। আবার ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা বাবদ একটা কর দিতে হচ্ছে। তৃতীয় পর্যায়ে গিয়ে ব্যাংকে জমা রাখা টাকার সুদের ওপর আবার কর দিতে হচ্ছে। বাজেটে আবগারি শুল্কের মাত্রা আবার বাড়ানো হয়েছে। এটা নেতিবাচক এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এতে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে।

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?

এ ব্যাপারে সরকারের বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ রয়েছে। যেমন— ১০০টি ইকোনমিক জোন করার কথা, গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং পরিবহন খাতে এবার অনেক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। কাজেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর প্রকল্পগুলো শেষ করলে তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যেমন— বিশ্বব্যাংকের যে গভর্ন্যান্স ইনডিকেটর রয়েছে, সেখানে সবগুলোয় আমাদের অবস্থান শেষ ২০ শতাংশ দেশের মধ্যে। কাজেই এখানে যদি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনা যায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা যায় না।

কর নীতির ক্ষেত্রে বলা হচ্ছেকরপোরেট কর কমালে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। আপনিও কি তা- মনে করেন?

এ বিষয়কে আমি খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারণ জমির প্রাপ্তি, গ্যাস-বিদ্যুত্সহ সার্বিক অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন— এ পূর্বশর্তগুলো পূরণ না করে কেবল করপোরেট কর কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত করা যাবে না। শেয়ারবাজারে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ওপর যে ৩৫ শতাংশ কর বসানো হয়েছে, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। এটি কিছুটা কমানোর সুযোগ রয়েছে। কর কমালেই যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, তা নয়। বিভিন্ন গবেষণায় আমি দেখেছি, ভাবনাটি ঠিক নয়। আমাদের দেশে সাত বছরের জন্য কর অবকাশ ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরে এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, অনেক ক্ষেত্রে কর অবকাশ যত দিন বিদ্যমান থাকে, তত দিন প্রতিষ্ঠানটি লাভ করে, দেখা যায় কর অবকাশ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ছে। জাতিসংঘে কাজ করার সময় আমি একটি গবেষণা করি, সেখানে দেখতে পাই— কর অবকাশটাই বিনিয়োগের একমাত্র নির্ণায়ক নয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কর অবকাশের প্রভাব নিয়ে বিআইডিএসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি, কিন্তু এ নিয়ে কোনো গবেষণা খুঁজে পাইনি। নিজের এ অভিজ্ঞতার আলোকে আমি কর অবকাশ সুবিধা কমিয়ে পাঁচ বছর করেছিলাম। সেখানে প্রথম দুই বছর শতভাগ, পরের দুই বছর ৫০ ভাগ এবং শেষ বছর ২৫ ভাগ ছাড় দেয়ার কথা ছিল। সরকারি পরিসংখ্যানে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জাতীয় উত্পাদনের আনুপাতিক হার হিসাবে ওই বছর পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। কাজেই আমার অভিজ্ঞতা বলে, করপোরেট করের মাত্রাটাই বিনিয়োগ বৃদ্ধির নির্ণায়ক নয়।

বিজিএমইএ বলছেএবারের বাজেট পোশাক শিল্পবান্ধব নয়

তাদের এ দাবি আমি যুক্তিসঙ্গত মনে করি না। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে— এক. পোশাক খাত এখন আর কোনো শিশুশিল্প নয়, বরং এটি অনেক পুরনো শিল্প। দুই. হয়তো পোশাক শিল্পের আগের অবস্থা নেই, তবে তারা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বলা যাবে না। একটি পোশাক কারখানার সঙ্গে অন্যটির হয়তো পার্থক্য থাকতে পারে। তবে সার্বিকভাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি এখনো ইতিবাচক। যদিও রফতানি প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কম।

তবে মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে ভাবা যেতে পারে। কারণ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা অনুযায়ী এটি প্রভাবিত হয়। তবে মুদ্রার বিনিময় হার অবমূল্যায়ন করা হলে সেটা আবার মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। তখন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমার মনে হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজিএমইএর উচিত তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করা। একই সঙ্গে পণ্যের মান উন্নয়ন করা।

আমাদের প্রবৃদ্ধিকে বলা হচ্ছেকর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি। কারণ আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়ছে নাঅন্যদিকে আয়বৈষম্য বাড়ছেতাহলে বাজেট দিয়ে আমরা কী অর্জন করব?

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি— এ ব্যাপারে আমি কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করি। এর কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জিডিপি কাঠামোর পরিবর্তন হয়। তবে আমাদের যদি প্রবৃদ্ধি বাড়ে, তাহলে প্রতি ইউনিট আউটপুটের কর্মসংস্থান কম হলেও মোট কর্মসংস্থান বাড়বে। সেজন্যই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করতে হবে। উত্পাদনশীল কর্মসংস্থান করতে গেলে তার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। সুতরাং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত. সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী আরো বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে বেকার বীমার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা ভাবতে হবে।

এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। তাই আয়বৈষম্য নিয়ে বলব, ম্যানুফ্যাকচারিং আর কৃষি খাতের মধ্যে কৃষি খাতে আয়বৈষম্য অপেক্ষাকৃত কম। উত্পাদনের বড় অংশ যখন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চলে যাবে, তখন দেশে সামগ্রিক আয়বৈষম্য বেড়ে যাবে। কিন্তু আয়বৈষম্য বাড়লেও যদি প্রবৃদ্ধি ভালো থাকে, তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অগ্রগতি সম্ভব।

 

শ্রুতিলিখনরুহিনা ফেরদৌসবণিক বার্তা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•ভোক্তা অধিকার আইন জানলেই অনিয়ম হ্রাস পাবে’ রুহুল আমীন।
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document