/* */
   Friday,  Jun 22, 2018   11:30 AM
Untitled Document Untitled Document
শিরোনাম: •সিসিলিতে ৫২২ অভিবাসী নিয়ে ইতালির উপকূলরক্ষী জাহাজের অবতরণ •সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পর্কে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য সচিবের আহ্বান •বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে : প্রধানমন্ত্রী •মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান ৩৪ কোটি টাকার অনুদান দেবে •সৌদি আরবকে হারিয়ে রাশিয়াকে নিয়ে শেষ ষোলোতে উরুগুয়ে •গণভবনে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা •প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে গঠিত হতে পারে : ওবায়দুল কাদের
Untitled Document

ভারতে নতুন কর ব্যবস্থা নিয়ে কেন এত বিভ্রান্তি

তারিখ: ২০১৭-০৭-০১ ০০:৩৩:১৯  |  ১৫৩ বার পঠিত

0 people like this
Print Friendly and PDF
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

নতুন এক কর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি রয়েছে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণের কর ব্যবস্থা। 'গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স - অর্থাৎ পণ্য পরিষেবা কর চালু করা হবে সংসদের সেন্ট্রাল হলে এক বিশেষ অধিবেশনে।

যদিও পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সহ আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দল এই কর ব্যবস্থা চালুর বিরোধিতা করছে।

এ নিয়ে যেমন রাজনৈতিক বিরোধিতা রয়েছে, তেমনই ব্যবসায়ী মহলে রয়েছে বিভ্রান্তি। আজ সারা দেশের অনেক ব্যবসায় ধর্মঘট করছেন জি এস টি চালুর বিরুদ্ধে - যদিও তারা এটাও মানছেন যে ইতিমধ্যেই যেহেতু আইন বদল হয়ে গেছে, তাই যতই বিরোধীতা করা হোক, কাল থেকে নতুন ব্যবস্থাতেই কর দিতে হবে।

কী এই জি এস টি?

আজ মধ্যরাতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে আনুষ্ঠানিকভাবে যে নতুন কর ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে, সেই পণ্য পরিষেবা কর অথবা সংক্ষেপে জি এস টি-ই এখন সারা দেশে সবথেকে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

সহজ কথায়, এতদিন প্রতিটি রাজ্য নিজের মতো করে যেসব কর বসাতো নানা পণ্য ও পরিষেবার ওপরে, সেগুলো উঠিয়ে দিয়ে একধরণের ব্যবসার জন্য সারা দেশে একই হারে কর বসানো হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট  ব্যবসায়ীদের অনেকে পণ্য পরিষেবা করের বিরোধিতা করছেন

কেন্দ্রীয় সরকার এবং অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন স্বাধীন ভারতে সবথেকে বড় কর ব্যবস্থার সংস্কার হবে জি এস টি চালুর মধ্যে দিয়ে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীতা যেমন আছে, তেমনই প্রতিবাদ হচ্ছে ব্যবসায়ী মহলেও। আজ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবসা বনধ চলছে।

কলকাতার বড়বাজার, নিউমার্কেট বা গড়িয়াহাট অঞ্চলেও বেশীরভাগ দোকানই বন্ধ। কিছু দোকান অবশ্য খোলা ছিল।

একটি দোকানের ম্যানেজার দেবাশীষ খামরুইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম নতুন কর ব্যবস্থায় তারা কতটা সড়গড় হয়ে উঠেছেন।

তাঁর কথায়, "আমাদের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি। কাল থেকে বোঝা যাবে এই ব্যবস্থায় কতটা সুবিধা হবে না কি অসুবিধা। তবে নতুন কোনও ব্যবস্থা চালু হতে গেলে প্রাথমিক কিছু সমস্যা তো সব ব্যাপারেই হয়।"

আরেকটি বড় বস্ত্র বিপনীর মালিক দর্শক দোশী বলছিলেন "স্বাধীনতার পর থেকে বস্ত্র শিল্পে কোনও কর ছিল না, কারণ খাদ্যের পরে বস্ত্রকেই দ্বিতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বলে গণ্য করা হত। এখন ৫% হারে কর বসানো হয়েছে। কিন্তু এটাই যে সময়ের চাহিদা, এটা আমাদের বোঝা দরকার - এ ছাড়া উপায় নেই। আর নতুন ব্যবস্থাটা এমন কিছু জটিলও নয়, তবে আমাদের বাড়তি কিছুটা সময় ব্যয় করতে হবে।"

গড়িয়াহাটের একটি সুপরিচিত বস্ত্র বিপনীর ম্যানেজার সুকোমল দে বলছিলেন তাঁরা নতুন ব্যবস্থায় কর দিতে তৈরী - তবে বাস্তবে যখন সেটা আগামীকাল থেকে চালু হবে - তখনই সুবিধা-অসুবিধাগুলো বোঝা যাবে। কিন্তু তাঁদের সমর্থন আছে নতুন ব্যবস্থায় যদিও প্রাথমিক কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়তো হতে হবে তাঁদের।

  নতুন কর ব্যবস্থার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ব্যবসায়ীরা

অনেক ব্যবসায়ী নতুন ব্যবস্থা কর দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেললেও আরও বহু ব্যবসায়ী এই ব্যাপারে এখনও দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন - যেমন দৈনন্দিন ব্যবহার্য খাদ্যদ্রব্যে দোকান মালিক অনিল আগরওয়াল।

"আমরা তো এখনও বুঝতেই পারছি না কোম্পানিগুলো কীভাবে মাল পাঠাবে, কীভাবে তাদের বিলিং হবে। তারা বলে দিয়েছে যে আগামী একসপ্তাহ কোনও মাল পাঠাতে পারবে না। তাই এই সপ্তাহে বেশী করে অর্ডার দিয়ে দোকান ভরে রেখেছি," জানাচ্ছিলেন মি. আগরওয়াল।

শুধু যে বড় দোকান বা বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলি জি এস টি-র আওতায় আসা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন তা নয়। গড়িয়াহাট অঞ্চলে রাস্তায় পোষাক বিক্রী করেন যাঁরা, তাঁদেরই একজন সুব্রত ঘোষ বলছিলেন, "আমরা যাদের কাছ থেকে জিনিষ কিনে এনে বিক্রি করি, দাম বাড়াবে তারাও। আমাদেরও তাই হয় লাভের অংশ কমে যাবে, নয়তো পোষাকের দাম বাড়াতে হবে। সেটা করলে আবার খরিদ্দার দুটোর জায়গায় হয়তো একটা পোষাক কিনবে।"

বাঙালীর চিন্তা আরও বাড়িয়েছে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে জি এস টি চালুর সিদ্ধান্ত - মিষ্টি শিল্প।

টক দইয়ের ওপরে কর না বাড়লেও নতুন ব্যবস্থায় মিষ্টি দই সহ অন্যান্য মিষ্টি, চকোলেট প্রভৃতির দাম বাড়তে চলেছে।

দাম বাড়বে অনেক ওষুধের ক্ষেত্রেও।

স্বাধীনতা ঘোষণার কায়দা চালু হবে জি এস টি

শিল্প বা ব্যবসায়ীদের দ্বিধা - উদ্বেগ, রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন আর বিরোধীতার মধ্যেই আজ মাঝরাতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে চালু হবে পণ্য পরিষেবা কর ব্যবস্থা। আজ মধ্যরাতের বিশেষ অধিবেশন অনেকটা সেই কায়দায় হতে চলেছে যেভাবে ১৯৪৭ সালের ১৪ আর ১৫ই অগাস্টের মাঝরাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। রাতের বিশেষ অধিবেশনে হাজির থাকবেন রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

আবার এই বিশেষ অধিবেশন বয়কট করবে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো আরও অনেক আঞ্চলিক দল।বিবিসি, কলকাতা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

•বাংলাদেশের উপকূলের কাছে রাসায়নিক বহনকারী জাহাজে আগুন •ভারতে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু •ভারতের মহারাষ্ট্রে দলিত ও কট্টর হিন্দুদের সংঘর্ষ, দেড়শ বাসে আগুন •মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ, উৎকণ্ঠায় অধীর আসাম •মোদি অমিতাভের চেয়ে বড় অভিনেতা'রাহুল গান্ধী •রোহিঙ্গা সঙ্কট: কলকাতায় মুসলিমদের বিক্ষোভ •কোরান পড়ে বুঝেছি, তিন তালাকে তা সম্মতি দেয় না •ভারতে নতুন রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক শপথ
Untitled Document
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সবচেয়ে পঠিত
  • এক্সক্লুসিভ

Top
Untitled Document